শীতে পড়ে উৎসবের ধুম। আজ কারও গায়েহলুদ, কাল বিয়ে, পরশু জন্মদিন—এই
করতে করতেই কেটে যায় শীতকালটা। তবে উপলক্ষ যা-ই হোক, উৎসবের জন্য
চাই উৎসবমুখর সাজ।
দিনের সাজগোজ-দিনের বেলা সাজের ক্ষেত্রে হালকা ধরনের
মেকআপই আপনাকে অনন্য সাধারণ করে তুলবে।
১) মুখটা ভালো করে পরিষ্কার করে হালকা ফেস পাউডার
বুলিয়ে নিন।
২) পার্টির আমেজ আনতে চির চেনা কাজলই একটু গাঢ় করে
চোখের কোলে বুলিয়ে নিন। আপনার পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে নানা রঙের পেন্সিল ব্যবহার
করতে পারেন। কিন্তু সবার আগে লক্ষ্য রাখবেন কোন রঙ আপনাকে মানায়। চোখের বাইরে কাজল
দিলে মাশকারা ও আইলাইনার না দিলেও চলবে। আপনার পোশাকের রঙের আইশ্যাডো ব্লেন্ড করেও
দিতে পারেন।
৩) লিপস্টিকের ক্ষেত্রে প্রথমে একই রঙের লিপলাইনার দিয়ে
ঠোঁট সুন্দর করে এঁকে নিয়ে লিপস্টিক দিয়ে ভরাট করে দিন। আপনি যদি গ্লসি পছন্দ
করেন তবে এর উপরে নরমাল কালারের লিপগ্লস ব্যবহার করতে পারেন।
৪) চুলের স্টাইল নির্ভর করবে আপনার পোশাকের ওপর। যদি
শাড়ি পরেন তাহলে হাত খোঁপা করে চুলে ফুল লাগাতে পারেন। যা আপনাকে স্নিগ্ধতা এনে
দেবে। আর আপনার চুল যদি ছোট হয় তাহলে ছেড়ে দিতে পারেন। এখন চলছে চুল রিবন্ডিং করার
ট্রেন্ড। তাই অনুষ্ঠানের আগে ভালো হেয়ার আয়রন দিয়ে চুলটা সোজা করে নিতে পারেন।
৫) ভারী গয়না বাদ দিয়ে পরতে পারেন মেটাল, এন্টিক, রূপার গহনা। অন্যরকম লুকের জন্য মাটির গয়নাও
দারুণ। শাড়ি অথবা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে পরুন চুড়ি অথবা ব্রেসলেট।
রাতের সাজগোজ- রাতের মেকআপ জমকালো হলেই বেশি ভাল।
১) শীতে মেকআপে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে সহজেই
মেকআপের বেইজ ত্বকে বসে যায়।
২) মেকআপের আগে ফেসওয়াশ লাগিয়ে মুখ ধুয়ে ক্লিনজিং মিল্ক
দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এরপর টোনার দিয়ে মুখ ভালো করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে
নিন।
৩) লিকুইড ফাউন্ডেশন মুখ-ঘাড়-গলায় ভালো করে ব্লেন্ড করে
লাগান। ফাউন্ডেশন দেয়ার পরও মুখে যদি সূক্ষ্ম রেখা বা দাগ থাকে, তাহলে কনসিলার ব্যবহার করুন। ফেস পাউডার দিয়ে ফাউন্ডেশনটা বসিয়ে দিন।
৪)এবার চোখের মেকআপ শুরু করুন। পোশাক ও তার রঙের ওপর
নির্ভর করে মেকআপ করুন। পোশাকের রঙে বা সম্পূর্ণ ভিন্নরঙা কন্ট্রাস্ট আই শ্যাডোর
সঙ্গে গ্লিটার আই লাইনার ব্যবহার করা যেতে পারে। নীল, সবুজ, সোনালি বা রুপালি যে কোনো রঙের আইলাইনারই
ব্যবহার করুন। শীতের সাজে চোখের মেকআপটা গাঢ় হয়। সেক্ষেত্রে গাঢ় মাশকারা আর কাজল
ব্যবহার করুন।
৫) লিপস্টিকের ক্ষেত্রে শীতের ‘গ্লস’ বিশেষ উপকারী। দেখতেও সুন্দর আর ঠোঁটকে রাখে সুরক্ষিত। ন্যাচারাল,
বাদামি পিচ অথবা গোলাপি লিপগ্লসে ঠোঁট হয় অনন্য।
৬) ব্লাশন লাগান চিকবোন বরাবর। ব্লাশন ব্যবহারের সময়
সতর্ক থাকুন, যেন উগ্র না হয়ে যায়। লিপস্টিক লাগানোর আগে লিপলাইনার
দিয়ে ঠোঁট এঁকে নিন। এরপর লিপব্রাশ দিয়ে লিপস্টিক লাগান। কপালের আকার অনুযায়ী
ছোট-বড় টিপ পরতে পারেন।
কোন পোশাক সঠিক- বাঙালি নারীর চিরকাল প্রিয় পোশাক শাড়ি।
যে কোনো অনুষ্ঠানেই এই পোশাকটি মানিয়ে যায় বেশ। তবে শীতের কথা মাথায় রেখে সিল্ক, জামদানি অথবা কোটা শাড়ি পরাই শ্রেয়। ব্লাউজটি হতে পারে ফুলস্লিভ। যদি
হালকা শাড়ি পরা হয় তবে সঙ্গে পরতে হবে ম্যাচিং করা ভারি একটি শাল অথবা কার্ডিগান।
শাড়ির এক সাইডে শাল ছেড়ে দিলেও দেখতে বেশ স্টাইলিশ লাগবে। অনেকে সময় বাঁচাতে শাড়ির
বদলে পার্টিতে বেছে নেন, ফুলস্লিভ সালোয়ার-কামিজ অথবা ফতুয়া।
সঙ্গে ছোট একটি শাল অথবা চাদর জড়িয়ে নিলেই পার্টির জন্য তৈরি আপনি। যদি পোশাকটা
তেমন গর্জিয়াস না হয় তাহলে সাজ এবং গহনাটি ভারী পরবেন আবার যদি পোশাকটি গর্জিয়াস
হয় তবে সাজ এবং গহনার দিকে বেশি মনোযোগ না দিলেও চলবে।
চুলের সাজ-সময়টা যেহেতু শীতকাল। গরম নেই, তাই চুলের সাজে খুব বেশি চিন্তার কিছু নেই। পছন্দমতো চুলের সাজ নিতে পারেন
এ সময়। আপনার সাজ, গেটআপ, মেকআপকে
পরিপূর্ণ করতে চুলের স্টাইলের গুরুত্ব সবার আগে। চুলের সাজ পুরো সাজকেই বদলে দিতে
পারে। স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে এ সময় চুল ছেড়ে রাখতে পারেন আবার বেঁধেও রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠান এবং সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চুলের স্টাইল নির্বাচন করুন। চুল ছেড়ে
রাখতে চাইলে করতে পারেন আয়রন, ব্লো ড্রাই, স্পাইরাল। চুলের দৈর্ঘা বাড়াতে চাইলে করতে পারেন এক্সটেনশন। করতে পারেন
লম্বা বেণী এবং বিভিন্ন খোঁপা ও ফুলের ব্যবহার। তবে যাই করুন না কেন, আপনার জন্য কোনটি মানানসই হবে একটু ভেবে তার পরই সিদ্ধান্ত নিন। বুঝতে
অসুবিধা হলে হেয়ার এক্সপার্টের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। এ সময় সব ধরনের
মানানসই গেটআপই নেওয়া যায়, যা অস্বস্তির কারণ হবে না।

0 comments: