শিরোনাম
Showing posts with label কোলাজ. Show all posts
Showing posts with label কোলাজ. Show all posts

‘কোলকাতা ফটোগ্রাফার্স ওয়ার্ল্ড’ এর তৃতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী

আগামী ১৩ থেকে ১৫ই জুন অবধি গগনেদ্র শিল্প প্রদর্শনশালায় প্রদর্শিত হবে কোলকাতা ফটোগ্রাফার্স ওয়ার্ল্ড এর তৃতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনী।
১৩ই জুন সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করবেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক শ্রী হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত এবং বিখ্যাত চিত্রশিপ্লী শ্রী অনুপ রায়।

প্রবেশ অবাধ।

তাদোবা আন্ধারী ন্যাশনাল পার্ক-পক্ষী পর্ব

কিছুদিন আগেই ঘুরতে গেছিলাম তাদোবা আন্ধারী ন্যাশনাল পার্কে। যা প্রধানত ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্যই বেশি পরিচিত। কিন্তু আজকে বাঘ মামার ছবি না দিয়ে তার জায়গায় দিলাম আমাদের কিছু পরিচিত অপরিচিত পাখিদের ছবি। এর পরে অন্য কোন সময় না হয় বাঘের গল্প বলা যাবে।

দিনকণা (ইন্ডিয়ান নাইটজার): বৈজ্ঞানিক নাম কাপ্রিমুল্গুস অসিয়াতিকাস। দেশের প্রায় সব জঙ্গল বা সাংচুয়ারী গুলিতেই পাওয়া যায়। এরা দিনের বেলা চোখে বিশেষ দেখতে পায়না। রাতে খুব ভালো দেখতে পারে। প্রধানত ছোট পোকা ধরে খায়। দিনের বেলা ছদ্মবেশ ধরে বসে থাকে,যাতে অন্য পাখি বা জন্তু -জানোয়াররা সহজে আক্রমণ করতে না পারে।


সবুজ বাঁশপাতি (গ্রীন বি-টার): বৈজ্ঞানিক নাম মেরপ্স অরিয়েন্তালিস। দেশের কোনও কোনও স্থানে এটি 'সুইচোরা', 'নরুন চেরা' প্রভৃতি নামেও পরিচিত। ট্রিউ ট্রিউ তীক্ষ্ণ শব্দ করে ডাকে। এরা মৌমাছি বা অন্য ছোট পোকা শিকারে খুব দক্ষ। লম্বায় প্রায় ৮ ইঞ্চি দীর্ঘ সবুজ বাঁশপাতির গড়ন ছিপছিপে । গায়ের রঙ উজ্জ্বল সবুজ। তবে মাথায় ও পিঠের ওপর দিকে আছে সোনালি পালক। ডানার নিচটা উজ্জ্বল তামাটে। এর কৃষ্ণবর্ণ ঠোঁটটি  একটু বাঁকানো। 'কাজলরেখা' রয়েছে চোখের দুই পাশে যা ঘাড়ের সঙ্গে মিশে গেছে। পাখিটির থুতনি ও গলায় কাছে রয়েছে নীল ছটা আর গলার নিচে আছে মালার মতো কালো টান। এর পায়ের রঙ কালচে। লক্ষ্যণীয় যে সবুজ বাঁশপাতির লেজের মাঝ বরাবর দুটি পালক দুই ইঞ্চি পরিমাণ বড়।
বাঁশপাতি গাছে বাসা বাধতে জানে না। এরা নদীর কূলে খাড়া জায়গায় গর্ত করে বাসা বানায়। প্রজনন মৌসুমে গর্তের গভীরে স্ত্রী পাখি ৫-৭টি ধবধবে সাদা রংয়ের ডিম পাড়ে। স্ত্রী-পুরুষ দুই পাখি মিলে ডিমে তা দেয়। বাচ্চা ফুটতে ২১-২৭ দিন সময় লাগে।


ধূসর ছড়াই (অ্যাসি প্রিনিয়া): বৈজ্ঞানিক নাম প্রিনিয়া সচিয়ালিস। ভারতবর্ষ ছারাও নেপাল, বাংলাদেশ,ভূটান,শ্রিলাঙ্কা,মায়ানমার এ এদের দেখতে পাওয়া যায়। এরা দেখতে খুব ছোট কিন্তু এদের ডাক খুব তীক্ষ্ণ। আজকাল জঙ্গল এর বাইরেও গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়। ধান সর্ষে খেতে পোকা ধরে বেড়ায়।

ঝুঁটিত্তয়ালা বাজপাখি-ঈগল (চ্যেঞ্জেবল হক ঈগল): বৈজ্ঞানিক নাম নিসেতুস সির্র্হাতুস। এদের মাথার ঝুটি দেখার মত। চ্যেঞ্জেবল এর অর্থ হল পরিবর্তনশীল। চ্যেঞ্জেবল নাম এর কারণ এদের পলকের রঙ্গ পরিবর্তন হয় জায়গায় জায়গায়। তাই এদের সঠিক ভাবে চেনা খুব শক্ত হয়ে দাঁড়ায়।


শাহ-বুলবুল (এশিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার): বৈজ্ঞানিক নাম তের্প্সিফনে পারাদিসী।  এশিয়ার মধ্যম আকৃতির প্যারাডাইস বার্ড। এরা দেখতে অনেকটা বুলবুলির মত। কিন্তু এদের লম্বা লেজ দেখে এদের সহজেই চেনা যায়। পূর্ন বয়স্ক শাহ-বুলবুল ১৯-২০ সেমি লম্বা হয়। অন্য পাখিদের থেকে অনেকটা আলাদা রকম দেখতে। অসাধারণ সুন্দর এই পাখির পুরুষ ও স্ত্রীর রং আলাদা হয়। পুরুষ (যা ছবিতে দেখা যাচ্ছে)এর শরীর সাদা আর মাথা কালো। স্ত্রীর শাহ-বুলবুল এর পিঠের দিকের রঙ খয়েরী,পেট এর দিকটা সাদা আর মাথা কালো। চোখের আশেপাশে উজ্জল নিল রং মুগ্ধ করে দিতে বাধ্য।

নীলকণ্ঠ পাখি(ইন্ডিয়ান রোলার): বৈজ্ঞানিক নাম  করাচিয়াস বেন্ঘালেন্সিস। বাংলায় যার নাম নীলকন্ঠ পাখি। এরা যখন ওড়ে তখন এদের পাখার রঙ উজ্জল নিল,তামাটে আর সাদা মিলিয়ে অদ্ভূত সুন্দর লাগে। নীলকন্ঠ পাখি সমগ্র ভারত,বাংলাদেশের গারো পাহাড়,হবিগঞ্জ,পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ সমগ্র দঃক্ষিণ এশিয়াতে দেখা যায়। পোকা,কীটপতঙ্গ,ব্যাঙ,সাপের বাচ্চা,টিকটিকি,গিরগিটি ইত্যাদি এদের খাদ্য। 
প্রাচীন প্রথা অনুসারে মা দূর্গা যেদিন বাপের বাড়ি ছেড়ে কৈলাস রওনা হন,সেদিন আগে থাকতেই নীলকন্ঠ ছেড়ে সুখবর পৌছে দেওয়া হয় শিব ঠাকুরের কাছে। 

হটটিটি (রেড-ওয়াটেল্ড ল্যাপুইং): বৈজ্ঞানিক নাম ভানেল্লুস ইন্দিকাস। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ডাকের কারণে নাম হয়েছে হটটিটি। ইংরেজিতে এই ডাকের অনুকরণে এর নাম রাখা হয়েছে ডিড-হি-ডু ইট পাখি। পাখিটি বাংলাদেশ,ভারত ছাড়াও দক্ষিণ, পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। জলাধারের আশেপাশে জোড়ায় জোড়ায় অথবা ছোট দলে এদের প্রায়ই চরে বেড়াতে দেখা যায়। অবশ্য শীতকালে এরা বিশাল দল গঠন করে ঘুরে বেড়ায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এরা বিস্তৃত,প্রায় ৫২ লক্ষ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস। আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।



ঝুঁটিত্তয়ালা সর্প ঈগল (ক্রেস্তে সারপেন্ট ঈগল): বৈজ্ঞানিক নাম স্পিলোর্নিস চীলা। ভারতবর্ষ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে এদের বাসস্থান। এদের চোখের নজর খুব তীক্ষ্ণ। অনেক দূর থেকে ইঁদুর বা সাপ সহজেই দেখে শিকার করতে পটু।


দেশি শুমচা(ইন্ডিয়ান পিট্টা): বৈজ্ঞানিক নাম পিত্ত ব্রাচ্যুরা। ভারতীয় পিট্টা নওরঙ,নীল পাখি, বন সুন্দরী,সাদা হালতি নামেও পরিচিত। এক ধরণের ছোট পাখি। পিট্টা তেলেগু শব্দ,যার অর্থ ছোট পাখি। এরা বর্ণিল পাখি।  

****************************
ছবি ও লেখা-দেবাঙ্কর দত্ত 
[পরিচিতি- কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও কর্পোরেট এম বি এ নিয়ে শিক্ষা গ্রহণ। বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তিতে (ওরাকল এপ্লিকেশন কনসালটেন্ট) কর্মরত। এত সবের মাঝেও সুযোগ পেলেই বেড়িয়ে পড়েন ঘুরতে। ফটোগ্রাফির প্রতি অদম্য আকর্ষণ ও তার অন্যতম কারণ। তাই বিভিন্ন জায়গার খোঁজ খবরও সব সময় রাখার চেষ্টা করেন।]

প্রথম ফটোগ্রাফির এক আভিনব প্রদক্ষেপ বডি পেইন্টিং


গত ১৯শে এপ্রিল প্রথম ফটোগ্রাফির স্টুডিও তে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অভিনব একটি ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ। ওয়ার্কশপটির সাবজেক্ট ছিল বডি পেইন্টিং। প্রথম ফটোগ্রাফির কর্ণধার বিখ্যাত ফটোগ্রাফার প্রতাপ দাশগুপ্তর তত্বাবধানে আমরা দেখলাম যে মানুষের শরীরে রঙের প্রলেপ দিয়ে তাকে কিভাবে জীবন্ত মূর্তিতে পরিণত করা যায়। আর তার সাথে আরও দেখলাম যে অঙ্কন শিল্পের সাথে চিত্রশিল্পের মেলবন্ধন কিভাবে ঘটে।
বডি পেইন্টিং প্রধানত ন্যুড স্টাডিজের একটি ঘরানা। আর ন্যুড কথাটি তথাকথিত রুচিশীল বাঙ্গালির ভ্রু অজান্তেই একটু কুঁচকে যায়। কিন্তু সারা পৃথিবী জুড়েই রেনেসাঁএর মূল বিষয় ছিল এই ন্যুড স্টাডি। মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর ডেভিড তার একটি বিখ্যাত উদাহরণ। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য শিল্প-কলায় উন্নত শহরগুলির তুলনায় কলকাতায় এই ন্যুড স্টাডিজের পরিসর অনেক কম। তাই প্রতাপ দাশগুপ্তর এই ওয়ার্কশপ একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস যা ভবিষ্যতে শিল্পীদের এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে অনেক উৎসাহের যোগান দেয়। 


প্রতাপ দাশগুপ্তর এই প্রয়াসে আশাতীতভাবে সাড়া দেখা গেছে বাঙালি চিত্রশিল্পীদের মধ্যে। বাংলাজিনকে তারা জানালেন ন্যুড স্টাডি নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা এবং উৎসাহের কথা।
কৌশিক মন্ডলঃ ফেসবুকে এরকম একটা ওয়ার্কশপ হচ্ছে দেখেই খুব উৎসাহিত হয়ে পড়ি। সঙ্গে সঙ্গে প্রতাপ দা কে ফোন করি। এই ওয়ার্কশপটা অন্যান্য পাঁচটা ওয়ার্কশপ থেকে একদম আলাদা। ন্যুড স্টাডি খুব চ্যালেঞ্জিং সাবজেক্ট। একটু উনিশ-বিশ হলেই এটা একটা ভালগার সাবজেক্ট হয়ে যাবে। তাই অনেক লিমিটেশনের মধ্যে থাকতে হয়। ন্যুড স্টাডি কে কিভাবে ক্রিয়েটিভ ভাবে ফুটিয়ে তুলতে হয় এই ওয়ার্কশপে এসে আমার সেই বিষয়ে একটা সম্যক ধারণা তৈরি হল।


যুগল দাসঃ প্রায় এক বছর ধরে আমি প্রতাপদার কাজের সাথে পরিচিত। প্রতাপদার অন্য বিষয়ের ওয়ার্কশপ গুলিতে যোগদান করলেও নুড আর্ট বা বডি পেন্টিং নিয়ে এই প্রথম কাজ। এই ধরনের কাজের সাথে আমার কোন পরিচয়ই ছিলনা এই ওয়ার্কশপ এর আগে। প্রতাপদা কে অসংখ্য ধন্যবাদ এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। 
রচিস মজুমদারঃ কোলকাতায় বসে এমন একটা সুন্দর সুযোগ পাব ভাবতে পারিনি। তা ছাড়া প্রতাপ স্যার নুড স্টাডির মত বিষয়টিকে এত সুন্দর ভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরছেন যে এই কঠিন বিষয়টি আর তেমন কঠিন থাকছে না। যেহেতু ইন্টারন্যাশনাল স্যালনে আমি যোগদান করি, সেক্ষেত্রে তার মান বজায় রেখে কাজ করতে গেলে এত দিন পর্যন্ত কোলকাতার বাইরে দিল্লী, মুম্বাই যেতে হতো। কিন্তু এখন সেই সুযোগ হাতের কাছে পাওয়াতে খুব উপকার হল।
সঞ্চয় চক্রবর্তীঃ মানুষের শরীরকে ধীরে ধীরে রং এর মাধ্যমে একটি মূর্তিতে পরিণত করার এই প্রয়াস সবসময় আমাকে নাড়া দেয়। এই ওয়ার্কশপে এসে সেই অনুভূতি, সেই কাজ করার ইচ্ছা আরও বেড়ে যায়। আমার করা কাজের ঠিক ভুলটি পুরোটাই সুন্দর করে চোখের সামনে পরিষ্কার হয়ে ওঠে সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে। এই রকম পদক্ষেপ আমার কাজের দৃঢ়তাকে আরও বেশী করে বলিষ্ঠ করে।

সৌগত লাহিড়ীঃ প্রতাপদার কাজ দেখার আগ্রহ থেকেই আমি প্রতাপদা কে খুঁজে নি। তারপর থেকে নিয়মিত প্রতাপদার ওয়ার্কশপ এ আশা শুরু করি। কমার্শিয়াল ভাবে নুড ফটোগ্রাফিকে কিভাবে ব্যাবহার করা যায় তার একটি সুন্দর উদাহরণ পাওয়া গেল প্রতাপদার কাজের মাধ্যমে।
দেবাশিস পাইকঃ আমরা যারা নুড আর্ট নিয়ে কাজ করি তাদের চিন্তা থেকে সাধারনের চিন্তা এই বিষয় নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আলো আর রঙের খেলার মাধ্যমে মানুষের শরীর কিভাবে বাস্তব থেকে পার্থিব সৌন্দর্য লাভ করে তার ধারণা পাওয়ার মাধ্যম হল ফটোগ্রাফির এই বিশেষ আর ঘরানাটি। 

তুলির আঁচরে ক্যামেরা বন্দি মানবদেহ

ছবি-প্রতাপ দাশগুপ্ত 
পেইন্টিং ও ফটোগ্রাফির এক অসাধারণ যুগলবন্দী বডি পেইন্টিং। যারা ন্যুড স্টাডি পছন্দ করেন, তাদের কাছে এক আকর্ষণীয় সুযোগ প্রথম ফটোগ্রাফির বডি পেইন্টিং ওয়ার্কশপ। প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার শ্রী প্রতাপ দাশগুপ্ত আগামী রবিবার অর্থাৎ ১৯ শে এপ্রিল এই ওয়ার্কশপে তরুণ প্রজন্মদের কাছে বডি পেইন্টিং ও ফটোগ্রাফি কিভাবে একসাথে প্রয়োগ করা যায় সেই চিত্রই তুলে ধরবেন।

ছবি-প্রথম ফটোগ্রাফির স্টুডিওয় প্রতাপ দাশগুপ্ত  

ফটোগ্রাফি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে আসার পর প্রতাপ দাশগুপ্ত মনে করেন ফটোগ্রাফির একঘেয়ে থিমের বাইরেও কিছু করা যায় কিনা। আর সেই চিন্তারই ফলস্বরূপ এই বডি পেইন্টিং এর ওয়ার্কশপ। ছোট বেলা থেকেই ওনার ছবি আঁকার শখ। তারপর ফটোগ্রাফির প্রেমে পরা। ক্যানভাসে তুলি সঞ্চালন করে এবং মানুষের জীবন্ত মুহূর্তগুলিকে ফ্রেম বন্দী করে পার করে এসেছেন জীবনের এতগুলি বছর। এখন নতুন কিছু করার তাগিদেই এই এক্সপেরিমেন্ট। ক্যানভাসের বদলে মানুষের শরীরে তুলির আঁচর কাটা এবং তাকে ফ্রেম বন্দী করা। প্রতাপ বাবুর কথায় তাঁর এই ওয়ার্কশপের প্রধান উদ্দেশ্য হল নতুন প্রজন্মের ফটোগ্রাফারদের কাছে ফটোগ্রাফির নতুন নতুন থিম তুলে ধরা। তাদেরকে নিত্য নতুন এক্সপেরিমেন্ট করার রসদ জোগানো। 

‘আর্ট অফ স্টিল(দ্বিতীয় পর্ব)’ ফলাফল

১৪ই এবং ১৫ই এপ্রিল আই সি সি আর এর নন্দলাল বসু গ্যালারীতে বিয়িং ইনফিনিটিআর্ট অফ স্টিল(দ্বিতীয় পর্ব) এর দুদিন ব্যাপী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হল।
আর্ট অফ স্টিল(দ্বিতীয় পর্ব) ফলাফল
বিভাগ ওপেন কালার -অভিক ঘোষ (ফ্লাইটিং অফ ইমাজিনেশন)
বিভাগ ওপেন মনক্রম -অভিক ঘোষ (অপুর পাঁচালি)
বিভাগ পোর্ট্রেট - সন্দীপন দে (ওল্ড ম্যান)
বিভাগ ল্যান্ডস্কেপ এবং পর্যটন ফটোগ্রাফি - অভিক ঘোষ (গঙ্গা আরতি)
বিশেষ পুরস্কার (ফটোগ্রাফি) সৌরভ নন্দী (বিজয়া দশমী)
বিশেষ পুরস্কার (ফটোগ্রাফি) রঞ্জন রায় (ওপেন মনক্রম)
বিভাগ পেন্টিং - প্রত্যুষা গোস্বামী বর্মণ রায় (কম্পজিসান)
বিভাগ পেন্টিং - সুপ্রিয় ঘোষ (স্টিল লাইফ) 









আলোকচিত্রে দেহতত্ত্ব

ন্যুড ফটোগ্রাফির নাম শুনলেই অনেকের মনেই অনেক কিছু চিন্তার স্তর উঠে আসে। সাধারণ মানুষ যারা কোন ভাবেই, দেখতে সহজ আদপে অত্যন্ত কঠিন এই ন্যুড আর্ট এর সাথে পরিচিত নন তারা এখনও পর্যন্ত পরিশ্রমী এই শিল্পকে সহজ ভাবে নিতে পারেননি।
অথচ নৃবিজ্ঞান বলে,মানুষ প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী নিরাভরণ ছিল। এক সময় মানুষ বৃষ্টি-বাদল,রৌদ্র ও শীত থেকে বাঁচতে বিভিন্ন উপাদান দিয়ে শরীর ঢাকা শুরু করে। তখন অন্তত লজ্জা বা শরমের তাগিদে মানুষ দেহ ঢাকতো না। মূল কথা,প্রাকৃতিক ভাবেই মানুষ নিরাভরণ। দেহ হল আত্মার আবাস স্থল। যে কোন ন্যুড আর্ট সেই আবাস স্থলের প্রকৃত সত্য রূপটিকে প্রকাশ করে।
অতীতে শিল্পীর তুলির টানে ন্যুড আর্ট এর পরিচিতি ঘটে। সময়ের সাথে সাথে সেই শিল্পী সত্তা টেকনোলোজিকে অবলম্বন করে ন্যুড ফটোগ্রাফির মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়। আর ন্যুড ফটোগ্রাফিকেও বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। ন্যুড ফটোগ্রাফি যতই বিতর্কিত হোক না কেন শিল্পীরা তাঁদের কাজ চালিয়ে গেছেন। তেমনই একজন শিল্পী হলেন প্রতাপ দাশগুপ্ত।

ফটোগ্রাফির প্রতি ভালবাসা বা ঝোঁক যাই বলা যাকনা কেন তা ছিল সেই প্রথম থেকেই। সে তো কত জনেরই থাকে। বিশেষ করে আজকের দিনে যেখানে ক্যামেরা কেনা সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে। ক্যামেরা কেনা সহজ হলেও তার বিষয়কে ঠিক ঠাক ভাবে প্রকাশ করা সব সময় হয়ে ওঠেনা।  আর কথা যদি ন্যুড ফটোগ্রাফি নিয়ে হয় তাহলে সেক্ষেত্রে ন্যুড আর ইরোটিক শব্দ দুটির মধ্যে একটি চুলের তফাৎ থাকে, যা যে কোন মুহূর্তে বিষয় চিন্তাকে এক পরত নেমে আর্টের গণ্ডি ছিঁড়ে হাড়িয়ে যাবে। এত কঠিন একটি বিষয়কে শুধুমাত্র ভালোলাগা,ভালবাসার তাগিদে আপন করে নিয়েছেন ফটোগ্রাফার প্রতাপ দাশগুপ্ত।











আমরা বাঙ্গালীরা বরাবরই অত্যন্ত রক্ষণশীল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন বাঙালি হিসেবে এই রকম পদক্ষেপ এখনকার প্রজন্ম বা আরও পরবর্তী শিল্পীদের কাছে প্রতাপ দাশগুপ্ত এর কাজ বিশেষ ভাবে শিক্ষণীয়। আজ যতটা স্বাছন্দের সাথে কাজ করছেন তিনি,কিন্তু শুরুর পথটা মোটেই ততটা সহজ ছিলনা। নিজের কাজের চাহিদা অনুযায়ী মডেল খুঁজে পাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কেউই এই পেশাতে মডেল হতে চাইতেন না। তবে প্রতাপ দাশগুপ্তের মতে বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক অনেক এগিয়েছে। এই বিষয় নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ছেলে-মেয়েরা এগিয়ে আসছেন,সে ন্যুড ফটোগ্রাফারই হোক বা ন্যুড মডেলিং । তার কারণ হিসেবে  প্রতাপ দাশগুপ্ত বলেন- ন্যুড আর্ট নিয়ে মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন,ন্যুড আর্ট নিয়ে পড়াশুনাটাও এখন অনেকেই করছেন। সত্যিই তো শিক্ষা যেকোনো শিল্প মাধ্যমকেই সমৃদ্ধ করে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

ছবি- প্রতাপ দাশগুপ্ত
[পরিচিতি- শুধুমাত্র ন্যুড ফটোগ্রাফি নয় ফটোগ্রাফির আরও অনেক অনেক বিষয় নিয়েই কাজ করছেন তিনি। পেয়েছেন অনেক অনেক গুনি মানুষদের কাছ থেকে নিজের কাজের সম্মান,ভালবাসা ও সমর্থন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়,মৃণাল সেন, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত,মান্না দে,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়,ঋতুপর্ণ ঘোষ আরও বহু বহু গুনি মানুষ ধরা দিয়েছেন তার ক্যমেরায়। পেয়েছে একাধিক পুরস্কার। যা তার কাজের চলার পথের মনোবল বাড়িয়ে তাকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে।]    

“বঙ্গালিঙ্গনে মানবদর্শন” শেষের উজ্জল দুই দিন

পশ্চিমবঙ্গ(ক্লিক স্টার্ট ফর্ম কালীঘাট) এবং বাংলাদেশে(নারায়ণগঞ্জ ফটোগ্রাফিক ক্লাব) র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হল ছয় দিন ব্যাপী ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী বঙ্গালিঙ্গনে মানবদর্শন।  শেষের দুই দিন উপস্থিত ছিলেন দুই বাংলার স্বনামধন্য দুই  ফটোগ্রাফার জয়ন্ত সাহা ও কেএম আসাদ। সম্মানীয় দুই অতিথি নিজেদের কিছু ছবি এবং তাদের কাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন অনুষ্ঠানে। সেই সুন্দর অভিজ্ঞাতর কিছু মুহূর্ত কে তুলে ধরা হল বাংলাzine-এর তরফ থেকে......     







   


বঙ্গালিঙ্গনে মানবদর্শন কিছু মুহূর্ত- পর্ব ২

স্মৃতি সর্বদাই সুখের। বঙ্গালিঙ্গনে মানবদর্শন এর আরও কিছু সুখকর স্মৃতি বাংলাzine-এর পাতায়......