শিরোনাম
Showing posts with label আড্ডা-বা-Zi. Show all posts
Showing posts with label আড্ডা-বা-Zi. Show all posts

অন্তরা


একক সন্ধ্যে স্নিগ্ধ আলোতোমায় ছুঁলে অবাক হই...
তুমি নিশি রাত, অমাবস্যায়;চির-পূর্ণিমা খুঁজবোই...
একলা পথ-হাঁটায় ক্লান্তিকুয়াশা যেই জীবন দায়ী...
তুমি এসে গাও, দীর্ঘান্তরা... লীনতাপী মন উদ্বায়ী!
খাদ-খাদকের বিলম্বনায়...চেয়েছি কি? পাইনা তোষ;
ভালোবাসাবাসি উপসর্গতে,না বাসলেও কার কি দোষ!
আড়কে মুড়ে রেখে দিতেই,বেশ হত ঠিক উদাসীন!
ভাবার বেলা ভুল হয়ে যায়,রাত যাক, ফের আসছে দিন।
হারিয়ে পাতা অনুভবের... বাঁকা পথ জুড়ে রক্তপাত!
এক ঝলকের হালকা শীত, অভিমান এসে চেনায় জাত...
হৃদয় বোঝে টানাপোড়েন, নাগাল বোঝে বোলচাল;
সময় যদি দুজনকে চায়!পরিযায়ী মন উত্তাল...
বাতাস ভাসায় কানের দুল,শব্দ জুড়ে ক্ষিদের স্তুপ...
আমায় ঘিরে থাকবে নাকি?আমি শীতাতপ, নিশ্চুপ...
উদাত্তস্বর বলতে থাকে,যেভাবে চোরাবালিতে কেউ;
জীবনবোঝায়আমি-তুমি নয়,অসময় ঘেরা সময়কেও...

 **************
ছবি ও লেখা-সুজয়নীল
[পরিচিতি-অঙ্ক নিয়ে পড়াশুনা। নিয়মিত লেখার অভ্যেস । কবিতা, গল্প, নাটক নিয়ে এফ.এম.-এ বিভিন্ন কাজ করার অভিজ্ঞতা। ভয়েস ওভার ছাড়াও বাংলা শব্দ নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন। 'শব্দবাজি' নামে বাংলা শব্দের খেলা দলের সাথে বর্তমানে যুক্ত।]

অন্য ক্রিকেট

নীলচে সবুজ পাহাড় গুলোর মাঝে এক টুকরো মখমলের মত মাঠ। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারীর প্রতিটি চোখ এখন সেই প্রবাদ পুরুষটির ওপর নিবদ্ধ।তার পদার্পণের সহর্ষ অভিবাদন পাহাড়ের বুক জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে আকাশে মিলিয়ে গিয়েছে খানিক আগে। এখন মাঠ ময় শুধু বিমুগ্ধ নীরবতা। জীবনে শেষবারের মতো গার্ড নিলেন তিনি। আম্পায়ারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক মুহূর্ত চোখ বুজলেন। বুঝতে পারলেন ঝোড়ো হাওয়া ও সবুজ উইকেট আজ  শেষ ইনিংসেও তার পরীক্ষা নেবে। বল হাতে প্রস্তুত এক অনামী তরুণ, যার মধ্যে ভবিষ্যতের তারকা হওয়ার চিহ্ন স্পষ্ট। মূলত তার দাপটেই এখন স্কোর বোর্ডে ১৪-২। ছেলেটিকে পছন্দ হয়েছে তার। তার প্রিয়তম খেলাটির রাজদণ্ড এমন তরুণদের হাতে ছেড়ে দিয়ে যেতে পারবেন ভেবে নিশ্চিন্ত বোধ করলেন তিনি। নীলচে ধুসর টুপিতে হাত চলে গেল স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে। দৃষ্টি নেমে এলো ক্রিজের দিকে। শুধু এইটুকুতেই আপামর ক্রিকেট প্রেমী তাকে অব্যর্থ চিনে নেবে।ছেলেটি দৌড় শুরু করেছে। সবুজ ঘাস চিরে হরিণের ক্ষিপ্রতায় ছুটে আসছে সে। লাল টুকটুকে বলটা বিদ্যুৎ বেগে সেই হাত থেকে বেরিয়ে এলো।হাওয়ায় বাঁক নিয়ে অফ ষ্ট্যাম্পের একটু বাইরে গুড লেংথের কাছে আছড়ে পড়ার মুখে শরীরটা মুচড়ে আরেকটা বিপজ্জনক বাঁক নিল। কিন্তু ততক্ষণে তার পা চলে গিয়েছে বলের দিকে, আর ব্যাটের আলতো দোলা এগিয়ে চলেছে বলের পূর্বনির্ধারিত পথে।
একটি আতঙ্কের স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে এলো সমস্ত গ্যালারীতে। আজ  তাদের চোখের সামনে এক অমর মহাকাব্যের শেষ পৃষ্ঠাটি সংযোজিত হচ্ছে। কিন্তু কে না জানে, ক্রিকেট বিধাতা তার প্রিয়তম সন্তানদের সামান্যতম ভুলও ক্ষমা করেন না। ক্ষমা ও দয়ায় অধিকার শুধু সাধারণের।
মহানায়কেরা সে কৃপা হতে বঞ্চিত।
ব্যাটে বল লাগার পরিচিত একটি শব্দ হলো। সবুজ উপত্যকার ওপর একটি পাহাড়ী নদীর মত বয়ে গেল বলটি। পয়েন্ট ও কভারে তখন স্থাণুবৎ দণ্ডায়মান দুই গ্রীক ভাস্কর্য।
সেদিন অপরাহ্ণে অপরাজিত শতরানে দলকে জিতিয়ে সহর্ষ উল্লাস ও অশ্রু জোয়ারে ভেসে ক্রিকেটের মাঠকে চিরবিদায় জানালেন ভিক্টর ট্রাম্পার।ঘটনা ও আবেগ মুখর সেই দিনের শেষে একান্তে ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে তিনি দেখলেন সেই তরুণ দাড়িয়ে তার প্রতীক্ষায়। তার বাড়িয়ে দেওয়া বলে সই করে তাকে জড়িয়ে ধরলেন ক্রিকেটের প্রবাদ পুরুষ । তার কথাগুলো তার কভার ড্রাইভ-এর মতই চিরকাল গেঁথে রইলো তরুণটির মনে

"শুধু একটা কথা মনে রেখো। ক্রিকেট শুধুমাত্র কোনো খেলা নয়। ক্রিকেট একটা প্রবহমান ঐতিহ্য, একটা অন্য জীবন। আজ  থেকে বহু বছর পর ক্রিকেটের কোনো রাজার কুমার যখন সারা বিশ্ব জয় করে সব শেষে একান্তে ওই ২২ গজের সামনে এসে দাঁড়াবে, তখন তার তুলে নেওয়া মাটিতে আমাদের সবার ছোঁয়া থাকবে। "
***************

শিবতোষ সিনহা
[পরিচিতি-পেশাগতভাবে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করে তারপর সফটওয়্যার ইঞ্জিনীয়ার; আর নেশাগত ভাবে সাহিত্যরসিক এবং লেখক। সঙ্গীত ও নাট্যপ্রেমী। লেখার শুরু সেই ছোটবেলায় বাড়ির খাতার পিছনের পাতা থেকে। সেই থেকে আজ অবধি ভাবনা আর স্বপ্নের আঁকিবুকি আলপনা চলছে।]

shibatosh@rediffmail.com  

নিদ্রা - ভঙ্গ


তোমার সাথে তৃতীয় বর্ষা আমার 
ভেজা চোখে , আলতো ছায়া পড়ে 
আমাদের রোদ ঝলমলে চিলেকোঠা 
আর ওই শ্যাওলা পড়া নৌকাটার ----

আমার জানালা বেয়ে নামে 
তোমার অশরীরী ক্লান্তি ,
যেটা বাঁক নিয়ে বিছানা স্পর্শ করে 
শান্তি চেয়ে নেয় । 
তোমার পাঁজরে পাঁজরে সাজানো 
আমার হাসি 
আমার গন্ধ 
আমার ছোঁয়া ---
আর স্বেদাক্ত অশ্রুরা 
তোমার বুক বেয়ে এসে 
মিশতে চায় আমার নাভিপদ্মে 
শিহরিত , তুমি - আমি - লোমকূপ । 

একটা অতীব শান্ত স্পর্শ অনুভব করলাম কপালে 
বন্ধ চোখে দেখতে পেলাম 
তোমার নীল রঙে 
আমার স্বপ্ন হল ভোর..........
ঘুমটা ভাঙতেই বুঝলাম 

তোমার সাথে , এখনো অনেক বর্ষা দেখা বাকি আমার ।। 

ঈশানী ভট্টাচার্য্য
[পরিচিতি- রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্মানিক নাটক নিয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। কলিকথা নাট্য দলের সঙ্গে যুক্ত। অভিনয় ছাড়াও না না ক্ষেত্রে ( স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি, নাটক ইত্যাদি ) কাহিনীকারের ভূমিকাতে যুক্ত থাকা। এই বাস্তব জীবনে লেখা তাকে প্রাণ খুলে বাঁচতে দেয়। "লেখা-লেখি বেঁচে থাক যুগের পর যুগ, আমাদের মধ্যে দিয়ে...."

গুরুদংমার যাত্রা পথেঃ পর্ব-তিন

গুরুদংমার এই যাত্রা পথে কোনও গাছপালা নেই,তাই অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। দিগন্ত বিস্তৃত উঁচুনিচু মাঠ,তার ওপারে শুধু বরফ ঢাকা চূড়া গুলো দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে আমরা অনেক উপরে উঠে এসেছি। এক জায়গায় দেখি কিছু ফ্ল্যাগ আর কয়েকজন লোক দাড়িয়ে, একটা গাড়িও ছিলও,আমরা গিয়ে তার পাশেই দাঁড়ালাম। সামনেই গুরুদংমার লেক, যেন বরফ দিয়ে মোড়া কিন্তু তাকানো যাচ্ছিল না কারণ সকাল সারে ৭ টায় সূর্যের আলো পড়ে চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল। এক সাইডে একটু জল আছে,সেখান দিয়ে তিস্তার জল বেরোচ্ছে,এই নিয়ে আমার এই বয়সে এসেও দুটো নামকরা নদীর উৎস দেখা হয়ে গেল। গোমূখে গঙ্গা আর এখানে তিস্তা। কিন্তু কম অক্সিজেন আমাদের বেশ দুর্বল করে দেওয়াতেই আমরা গাড়ি থেকে নেমে বেশি হাঁটাহাঁটি করতে পারিনি ।কয়েকটা ছবি তুলে নিয়েই গাড়িতে উঠে পরেছি (ছবি ১৬ থেকে ২০)।ছবি তোলার ক্ষমতাই যেন চলে গেছিল। শুধু আমার নয়,অন্যদেরও একই অবস্থা। কারণ পরে বুঝেছি,বলছি পরে। দুপুর বারোটা নাগাদ লাচেন ফিরে এলাম। এরপর আমরা যুম্থাং যাব বলে লেচুং-ও গেছিলাম,কিন্তু শরীর খারাপ হওয়ার জন্য আর যেতে পারিনি,পরের দিন গ্যাংটক ফিরে গেলাম । কিন্তু আমাদের গ্যাংটক দেখা হয়নি। 






আসলে আমাদের প্ল্যানিং টা একটু ভুল ছিল,আমরা কথাও নিজেদের শরীরকে আবহাওয়ার সঙ্গে সমন্বয় করার সময় দেয়নি। এটার খুবই দরকার। গুরুদংমার লেকে এই যে শরীর খারাপ হয়েছিল,সেটা হত না যদি আমরা প্রতি স্টপে একটা করে অতিরিক্ত রাত কাটাতাম। ১০ ঘণ্টা জার্নি করে,অল্প খেয়ে,রাত ২ টোয় বেরিয়ে,জল ছাড়া আরও ১০ ঘণ্টা কাটালে যে কোনও লোকের শরীর খারাপ হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কাজেই গুরুদংমার লেক দেখতে গেলে এই ভাবেই প্ল্যান করাটা আমার মনে হয় ভালো হবে - যাওয়ার পথে গ্যাংটকে অথবা লাচেনে ২/৩ রাত,আর ফেরার পথে গ্যাংটকে এসে অন্তত ১ রাত কাটিয়ে নিলে শরীরের উপর চাপ কম পরবে। যাত্রার সময়ে যেখানেই যাও ভালো স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স অথবা ড্রাই-ফুড যেন সাথে থাকে,কারণ রাস্তায় সবসময় মনোমত খাবার পাওয়া যায়না। আর অবশ্যই প্রত্যেকের জন্য একটা করে জলের বোতল সাথে রাখতে হবে।
সমাপ্ত
**************

ছবি ও লেখা -অভিজীৎ সরকার
[পরিচিতি-ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট।বয়স ৬৭,ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন ছবি তুলতেও, চাকরী করা কালীন ফটোগ্রাফি শেখার সময়-সুজগ হয়নি, যে দৃশ্য তার চোখে ভাল লাগে সেই ছবিই তোলেন। সালটা সম্ভবত ১৯৫৭-৫৮ হবে, হটাৎই কিনে ফেলেন একটা জার্মানী মেড আগফা ক্যামেরা, সুরু হয় ফটোগ্রাফির যাত্রা। যদিও তিনি বলেন- আমার ফটোগ্রাফির জ্ঞান খুবই কম, ইয়ং জেনারেশনদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি। কিন্তু তার ছবি ও গল্পে একটা অসাধারণ আকর্ষণ আছে, যার কোন তুলনা হয় না।] 

গুরুদংমার যাত্রা পথেঃ পর্ব দুই


লাচেন পৌঁছলাম তখন সময় সন্ধে পৌনে ৭ টা। লাচেনের পেছনে অনেকটা উপরে সামনের পাহাড়ের পিছন থেকে বরফের চূড়া উঁকি দিচ্ছে,চাঁদের আলয়ে দারুণ লাগছে, অন্ধকারে লচেন শহরটা বেশ সুন্দর লাগছিল এবার জানতে পারলাম যে গুরুদংমার যেতে হলে রাত ২ টোয় রওনা দিতে হবে। প্লাস্টিক এর বোতলে জল নেওয়া যাবে না,আর রাস্তাও ভয়ানক খারাপ। ৭৫ কিমি যেতে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। সকাল ৮ টার পর আর্মি আর যেতে দে না,কারণ লোক উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার মতন জোরে হওয়া বয় নাকি। তাছাড়া লেকটা ১৭১০০ ফিট উপরে,তাই অক্সিজেনও কম। অনেকেরই শরীর খারাপ হয়,তাই চেক পোস্টে আটকে দেয়। যাই হোক আমাদের রওনা দিতে ভোর ৩ টে বেজে গেল। 










 চাঁদের আলোয় অন্ধকার রাস্তা দারুণ লাগছিল। তিস্তার জল চিক চিক করছিল। চারিদিক নিস্তব্ধ,তার মাঝে অন্ধকারে জল বয়ে যাওয়ার আওয়াজ আর চাঁদের আলো,দারুণ লাগছিল। কিন্তু এর মধ্যেই এবার আমার বমি হওয়া শুরু হয়ে গেল,কিন্তু মুখ ধোওয়ার জল ছিল না। সারা রাস্তায় আর্মি পোস্ট ছাড়া আর কোনও বসতি নেই। অন্ধকারে পেছনে অনেক নীচে দেখি আরও তিনটা গাড়ির আলো, আসছে দুলতে দুলতে। ভোরবেলায় চারিদিকের বরফের পাহাড় গুলো দারুণ লাগছিল। চেক পোস্ট পৌঁছে আবার আমাকে দেখতে এলো অফিসার কারণ কাগজে আমার বয়স দেওয়া ছিল। বলে যে আপ ঠিক হ্যাঁয়? যা সকেঙ্গে? ষাঠ বরস্ কি উপর কা আদমী কো হামলোগ জানে নেই দেতে। ঠিক হ্যাঁয়,তো যাইয়ে। উপর মে অক্সিজেন বহুত কম হ্যায়। তকলিফ হোগা তো তুরন্ত লওট্ আজাইয়েগা। ছাড় পেয়ে এবার আমরা গুরুদংমার যাওয়ার ফাইনাল ফাস্ট রাস্তা ধরলাম। 
চলবে......
**************

ছবি ও লেখা -অভিজীৎ সরকার
[পরিচিতি-ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত চার্টার্ড একাউন্টেন্ট।বয়স ৬৭,ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন ছবি তুলতেও, চাকরী করা কালীন ফটোগ্রাফি শেখার সময়-সুযোগ হয়নি, যে দৃশ্য তার চোখে ভাল লাগে সেই ছবিই তোলেন। সালটা সম্ভবত ১৯৫৭-৫৮ হবে, হটাৎই কিনে ফেলেন একটা জার্মানী মেড আগফা ক্যামেরা, সুরু হয় ফটোগ্রাফির যাত্রা। যদিও তিনি বলেন- আমার ফটোগ্রাফির জ্ঞান খুবই কম, ইয়ং জেনারেশনদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি। কিন্তু তার ছবি ও গল্পে একটা অসাধারণ আকর্ষণ আছে, যার কোন তুলনা হয় না।] 

গুরুদংমার যাত্রা পথেঃ পর্ব এক

আমরা ৬ জন ঠিক করেছিলাম যে যেভাবেই হোক একবার গুরুদংমার লেকটা দেখে আসতে হবে। সুযোগ পেয়ে গত ৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৪ বেরিয়ে পরলাম পদাতিক এক্সপ্রেস ধরেমালদা পর্যন্ত বেশ গেলাম নির্ধারিত সময়ের আগেই,কিন্তু তার পর থেকে শুরু হলো দেরী হওয়া। বোধহয় বিধি কিছুটা বাম ছিলেন,শুনলাম কোথায় লাইনে ক্র্যাক দেখা দিয়েছে তাই দেরী হচ্ছে। এদিকে প্রচণ্ড কুয়াশা যাই হোক ঘণ্টা লেট করে বেলা টেয় পৌঁছলাম নিউ জলপাইগুড়ি। সকাল থেকে বিশেষ খাওয়া দাওয়াও হয়নি গাড়ি ছিল তাই সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পরলাম রাস্তায় চাঁদের আলো অপরূপ লাগছিল। গ্যাংটক পৌঁছলাম রাত সারে টায়।













পরের দিন বেড়তে বেড়তে সারে ৯ টা হয়ে গেল,কারণ গাড়ি আসতে দেরী করেছিল। আমরা ট্যাক্সি-স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে ছিলাম যাব লাচেন,গ্যাংটক থেকে প্রায় ১২৪ কিমি দূরত্ব। পথে পরবে মাঙ্গান,৬৫ কিমি দূরত্ব। প্রথম স্টপ বাটার ফ্লাই ওয়াটার-ফল্স্,বেশ ভালো লাগলো রাস্তা মোটামুটি ভালো,অল্প ভাঙ্গাচোরা, থামলাম আবার তিস্তা বাঁধ পেরিয়ে। সুন্দর জায়গা,দেখলাম একটা উপনিবেশ,ঠিক ব্রিজের নীচে। লোকেরা দূর থেকে গাছের ডাল কুড়িয়ে আনছে জ্বালানির জন্য। বুঝলাম বেশ কষ্ট করতে হয় এবার শুরু হলো খারাপ রাস্তা। গত ২০১১-১২ সালে যে ভূমিকম্প হয়েছিল তার জের এখনো চলছে। মাঙ্গান সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এখনও সারাই চলছে,মহিলারাও আছেন,একজনকে দেখে তো বেশ স্টাইলিশ লাগলো। যাওয়ার পথে মিলিটারিদের কনভয় কে রাস্তা ছাড়তে হলো তারপর আবার যাত্রা শুরু হল।
গুরুদংমারযাত্রা পথেঃ পর্ব দুই
****************

ছবি ও লেখা -অভিজীৎ সরকার
[পরিচিতি-ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত চার্টার্ড একাউন্টেন্টবয়স ৬৭,ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন ছবি তুলতেও, চাকরী করা কালীন ফটোগ্রাফি শেখার সময়-সুজগ হয়নি, যে দৃশ্য তার চোখে ভাল লাগে সেই ছবিই তোলেন। সালটা সম্ভবত ১৯৫৭-৫৮ হবে, হটাৎ কিনে ফেলেন একটা জার্মানী মেড আগফা ক্যামেরা, সুরু হয় ফটোগ্রাফির যাত্রা। যদিও তিনি বলেন- আমার ফটোগ্রাফির জ্ঞান খুবই কম,ইয়ং জেনারেশনদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছিকিন্তু তার ছবি ও গল্পে একটা অসাধারণ আকর্ষণ আছে,যার কোন তুলনা হয় না।]

আমি জেনেশুনে হেথা করেছি pun

হিজিবিজি ভেবে হাবিজাবি লেখা
-------------------------------------------------
একটা হিজিবিজি স্বপ্নে দেখা একটুকরো ছায়াছবি ...
[ দোসরা অগাস্ট, ২০১৪ রাত ৩:১৫ - আমি তখন বাঁ কাত ]
স্বপ্নদৃশ্য - একটি সরকারী হাসপাতাল
ভারী ধুন্ধুমার কান্ড ঘটেছে সক্কাল সক্কাল। হয়েছে কি , বলা নেই কওয়া নেই পাওলি দাম করে মাথা ঘুরে পরে গেছে। আর সাত তাড়াতাড়ি কে যেন তাকে এনে একটা সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছে। দ্যাখো কান্ড! এখন সেথায় টলি - বলি সব ফিল্মস্টারদের মেলা লেগে গেছে । আর নেতারা তো সর্ব ঘটে কাঁঠালী কলা। এখন সাধারণ লোকেদের ভীড় ঠেকাতে হাসপাতালের লোক আর পুলিশের প্রাণ ওষ্ঠাগত। মিডিয়াকে তো পঞ্জিকা থেকে গঞ্জিকা সবই কভার করতে হয়। স্পষ্ট দেখলাম আমি সেখানে রিপোর্টার হয়ে ঘোরাঘুরি করছি।
খবর শুনে সবাই হাসপাতাল মুখী।
রুদ্র :"নীল হয়ে গেছে জায়গাটা। কিছু না । মাথা ঘোরার কেস .... "
"কি করে? হঠাৎ মাথা ঘোরে কি করে ?"
একটু বিরক্ত পরম " ব্রত ট্রত ছিলনাতো ? মানে উপোষ টুপোষ ?"
ইরফান : "খান নি নাকি কিছু সকাল থেকে ? একটু খেয়াল রাখবেন তো ?"
অক্ষয় : "খান না -ও হতে পারে। আজকাল যা ডায়েট! "
সেক্রেটারি : "আরে দূর মশাই, খেয়েছেন। আমার হয়েছে যত দোষ নন্দ ..."
বিক্রম : "ঘোষ।কি আর করবেন। ওদিকে বাইরে কাতারে কাতারে লোক জমা হয়েছে । কাতারেও এত লোক নেই মশাই। "
জয়া : "সীল করে দেওয়া উচিত ছিল জায়গাটা এতক্ষণে পুলিশ দিয়ে।নাহলে পরে মব কন্ট্রোল করা যাবে না।"
ভরত : "কল খুলে জলের তলায় আধ ঘন্টা। ব্যাস, তাহলেই ল্যাঠা চুকে যেত। কাল কি , পরশুসিটেও পড়ত না।"
পাবলিক : "ভালই হলো। কারোর পৌষমাস , কারোর আছোলা বাঁশ। ওই দেখ , মুনমুন আর রিয়া "
"সেন কোর কাছে এমন জ্যাম-এ আটকে গেলাম আমরা ! উফ। আরে তুই এখানে ? কি খুজছিস ? এই ভূমিকা !!"
"চাওলা দেখিস যদি বলিস তো। আমার মাথাটা এমন ধরেছে ! "
পাবলিক : "এই দেখ ! নেতারাও আসছে "
ববি : "হেকিম ডাকলেই হয়ে যেত। হই চৈ করার মতো কিছুই হয়নি। শুধু শুধু চ্যানেল গুলোকে স্কোপ করে দেওয়া। এবার বলবে, যে সরকার তার লোকেদের পড়ে যাওয়া আটকাতে পারেনা, তার পড়ে যাওয়াই উচিত। "
পাবলিক ১ : " দেখ কাকবাবু "
পাবলিক ২ : "কার কাকাবাবু?"
পাবলিক ১ : "আরে কাকাবাবু না, কাকবাবু। ওই যে কি যেন নাম.... শুভা "
"প্রসন্ন হলেম তোমাদের সবাইকে অনেকদিন পর দেখে। সরকারী হাসপাতালেও এলেম কত বছর পর। কি বিবর্ণ। তোমরা বললে এটাকে দুরন্ত একটা রং করে দিতে পারি। "
ববি : "কোনো দরকার নেই। আঁকুন বরং কাক। হাসপাতালটা থাক।"
"শোন। কাক তুলোনা। আমি কাক আঁকি বটে তবে সেটা পাতি না। আমার স্বপ্ন একদিন কলকাতাকে রং-এ ভরিয়ে দেব। তুমি কি বল গৌতম ? "
"দেব বলছেন কেন? অলরেডি তো দিয়েছেন।
চারিদিকে তো রাইট আর কিছু দেখিনা। সব রং। "
"লেফট রাইট ছিলনা মোটেই । যত্তো ঢং। "
তথাগত : "রায় মানুষই দেবে। এই লেফট রাইট করে কোনো লাভ নেই। "
"সেই। সবাই মিলে এখন তবে রাম রাম করি আর কি। "
"তাই করুন। সেটা বাম বাম করার চেয়ে ঢের ভালো। "
"স্যার, পাবলিক ব্যারিকেড ভেঙ্গে ঢুকে পড়ছে। "
"এই , এই। ওই রিপোর্টারটা সব তুলছে। এই, ওকে ধর। .. পুলিশ , পুলিশ ..."
তারপর কিভাবে যেন পুলিশগুলো আমায় ধরে ফেলে জামা ধরে বেজায় ঝাঁকাতে লাগলো আর বলতে লাগলো "ওই, কটা বাজে খেয়াল আছে ? বাজার যাবি না ? কি রে ? "

what's in a name ....
কিন্তু যাদের নাম ছাড়া এই পোস্টটি তৈরী হত না :
কৃতজ্ঞতা : পাওলি দাম ,রুদ্রনীল ,পরমব্রত,ইরফান খান, অক্ষয় খান্না , বিক্রম ঘোষ, জয়া সীল,ভরত কল, রিয়া সেন, ভূমিকা চাওলা ,ববি হাকিম, শুভাপ্রসন্ন, গৌতম দেব এবং তথাগত রায়।
*****************
ছবি ও লেখা-শিবতোষ সিনহা
[পরিচিতি-পেশাগতভাবে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করে তারপর সফটওয়্যার ইঞ্জিনীয়ার; আর নেশাগত ভাবে সাহিত্যরসিক এবং লেখক। সঙ্গীত ও নাট্যপ্রেমী। লেখার শুরু সেই ছোটবেলায় বাড়ির খাতার পিছনের পাতা থেকে। সেই থেকে আজ অবধি ভাবনা আর স্বপ্নের আঁকিবুকি আলপনা চলছে।]

তুমি আর সংক্রমণ

যৌনতা সবার চাই । দুপুরে ফোন এসেও, ফোন ফিরে যায় ॥
রোদ পড়ছে তখন নত করে, তবু শুধুই খাই খাই ।
আর ওদিকে শ্বশুর আড়ালে তোমার উলঙ্গ শরীর দেখে কাম মেটাতে চায় ॥
তুমি অস্বীকার করো না । আর কিসের লজ্জা ?
একবার নয়, শতাধিক বার আহত হয়েছে তোমার যোনি ।
সমাজ বিদ্বান কিন্তু কেউ তোমার কথা মানে নি ॥
কামনার কু-প্রস্তাবে বার বার বেজে ওঠে ঘটি বাটি জল ।
এভাবেই তোমার শরীরে বিষ সংক্রমণ, আর চোখ ছলছল ॥

কতলোকে তো বেশ্যাপাড়া যায়, তবু গিয়ে বলে আমি তো যাই নি ।
তারা তোমার যোনিতে কোল্ড-হুইস্কি ঢেলে চেটে খেয়েও বলে-
'আমি ঈশ্বর আরাধনায় বিলিন, আমি তো এসব খাই নি'

তাহলে, তুমি কি ভাবছো কেউ কি তোমায় কখনও ভালোবাসবে না ? শুধুই অপমান !
জেনে রাখো । এই শরীর ভোগ্যপণ্য বিদ্বান সমাজে ।
নারী হয়ে জন্ম নিয়েছিলে, এইটুকুই তোমার প্রাপ্য সন্মান ॥

**************
ছবি ও লেখা- রুবেল ভট্টাচার্য 
[পরিচিতি-কিছু কিছু মানুষ থাকেন যারাতথাকথিত পুঁথিগত বিদ্যার থেকেও বঙ্গসংস্কৃতির অন্যান্য বিষয়ে কাজ করতে অনেক বেশি স্বাছন্দ্য বোধ করেন। রুবেল ভট্টাচার্য ও হলেন তেমনই পথের পথিক। গান গাওয়া,বাদ্য যন্ত্র এই সবের সাথে নিজেকে বেশি একাত্ম বোধ করেন।আর ভালোবাসেন লেখালেখির মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিতে]