লিওনেল
মেসি, ম্যানুয়েল নয়্যার, নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু অনেকেই ক্রিস্টিয়ানোর জেতার সম্ভাবনাকেই
বেশি এগিয়ে রাখছেন। কি সেই কারণ গুলি যার জন্য ক্রিস্টিয়ানোর কপালে জুততে পারে ব্যালন ডি’অর। যেনে নেওয়া যাক সেই গুলি...
প্রথম
কারণ- অবিশ্বাস্য একটা বছর গেছে মেসি ও
রোনালদোর। মেসির মতো ইনজুরি সমস্যায় ভুগেছেন রোনালদো নিজে। কিন্তু
তার পরও ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ২০১৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৫৫ ম্যাচ খেলে ঠিক
৫৫ গোল করেছেন। গোল সহায়তা আছে ১৯টি। অন্যদিকে মেসির গোল ৬২ ম্যাচ খেলে করেছেন ৫২
টি। গোল করিয়েছেন ২১টি। শেষের দিকে রোনালদোর সঙ্গে গোল ব্যবধানটা মেসি অনেকটাই
কমিয়ে এনেছেন । চার দিনের ব্যবধানে টানা দুটো হ্যাটট্রিক করে ভেঙেছেন স্প্যানিশ
লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। কিন্তু মেসির জন্য সমস্যা হলো,গত দাতাদের
প্রভাবিত করার অনেক আগেই ভোট দেওয়ার শেষ তারিখ পেরিয়ে গিয়েছিল।
দ্বিতীয় কারণ- রেকর্ড সংখ্যকবার
চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা রিয়াল মাদ্রিদই এই টুর্নামেন্টটায় ব্যর্থ হচ্ছিল বারবার।
২০০২ সালের পর রিয়ালকে আবার এই গৌরব এনে দিয়েছেন রোনালদো। বিশ্বকাপে পর্তুগাল
প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ক্লাব সাফল্য বিবেচনায়
রোনালদোই এগিয়ে সবার থেকে।
তৃতীয় কারণ- বছরজুড়ে রোনালদো
ছিলেন আশ্চর্য রকমের ধারাবাহিক। এই বছর রিয়ালের হয়ে নিজের হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটা
২৬-এ উন্নীত করেছেন। আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর রেকর্ডটা থেকে মাত্র দুটো হ্যাটট্রিক
পেছনে আছেন রোনালদো। এর মধ্যে লা লিগায় রোনালদোর হ্যাটট্রিক ২২টি। যেখানে ডি
স্টেফানোর রেকর্ড তিনি ছুঁয়েই ফেলেছেন। এই বছর তিনটি ট্রফি জিতেছেন। কোপা ডেল রে, চ্যাম্পিয়নস
লিগ, উয়েফা সুপার কাপ। এই তিনটি টুর্নামেন্টের দুটোর
ফাইনালেই গোল করেছেন।
চতুর্থ কারণ- গত বছর করা রোনালদোর
রেকর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের রেকর্ডটি। এক
আসরেই রোনালদো ১৭ গোল করেছেন, মাত্র ১৩ ম্যাচে। মেসির রেকর্ডটি শুধু ভাঙেননি,
সেটিকে আরও অস্পর্শনীয় উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। শুধু চ্যাম্পিয়নস
লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা নয়, রোনালদো ছিলেন গত মৌসুমের লা
লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা। জিতেছেন পিচিচি ট্রফি। এ ছাড়া ইউরোপের সব কটি লিগ
মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার যে পুরস্কার, সেই গোল্ডেন শুও
জিতেছেন রোনালদো।
পঞ্চম কারণ- গুরুত্বপূর্ণ
স্প্যানিশ সুপার কাপ ছাড়া মেসি এ বছর কোনো ট্রফিই জেতেননি। সেই সুপার কাপও মেসি
নয়, নেইমার-ঝলকে জিতেছিল বার্সা। এল ক্লাসিকোতে মেসির রেকর্ডটা অবিশ্বাস্য
হলেও এ বছর রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে মুখোমুখি ম্যাচগুলোতে কেন জানি মেসি সে রকম
জ্বলে উঠতে পারেননি। মেসির নিষ্প্রভতার কারণেই বার্সাকে হটিয়ে গতবার স্প্যানিশ
লিগ জিতেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। নয়্যার সেদিক দিয়ে কিন্তু অনেক সফল ছিলেন। গত
বছরের শেষপ্রান্তে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন। এ বছর জিতেছেন জার্মান লিগ ও
জার্মান কাপ। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বকাপ জেতাতে রেখেছেন বড়
ভূমিকা। কিন্তু এই বাস্তবতা সত্যি, গোলরক্ষক হয়ে
রোনালদো-মেসির জনপ্রিয়তার সঙ্গে তার টক্কর দেওয়া আসলেই কঠিন। আর ফিফা ব্যালন ডি’অরে যেহেতু সারা
বিশ্বের ফিফা সদস্য দেশগুলোর অধিনায়ক, কোচ ও একজন সাংবাদিক ভোট দেন, সেখানে জনপ্রিয়তা অনেক বড় একটা বিষয়।
সুত্র- গোল.কম।

0 comments: