![]() |
হাবাসের স্ট্র্যাটেজিতেই
জয় এডিকের। ছবি আইএসএল।
|
লড়াই, লড়াই, লড়াই। আর এই লড়াই করেই প্রথম
আইএসএল-এর প্রথম ফাইনালে অ্যাথলেটিকো দে কোলকাতা।
ফিকরু নেই। তাই গোল করার লোকও কম। কিন্তু গোল
যদি নাই হয় তাহলে গোল খাওয়াও চলবেনা। এই স্ট্র্যাটেজি নিয়েই দল নামিয়েছিলেন
কোলকাতার স্প্যানীশ কোচ অ্যান্তনীয় লোপেজ হাবাস। এবং তিনি তাঁর এই পরিকল্পনাতে
চূড়ান্ত ভাবে সফল। ফলে ম্যাচের ৯০ মিনিট ও
অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটও রইল গোল শূন্য। আর তারপর আইএসএল-এর প্রথম টাইব্রেকারে
৪-২ গোলের নাটকীয় জয়ে শনিবার আরব সাগরের উপকূলে কেরালার বিরুদ্ধে শেষ লড়াইয়ে হাবাসের ছেলেরা।
আজ প্রথম থেকেই ম্যাচ ছিল উত্তেজনাপূর্ন। ফিকরু
না থাকায় রফিকে একা সামনে রেখেই আল্ট্রা ডিফেন্সিভ ছকে শুরু করেছিল কোলকাতা। কিন্তু
তা সত্বেও মাঝে মধ্যেই কাউন্টার অ্যাটাকে গোয়ার রক্ষণকে বেশ বিপর্যস্ত করে তুলছিল
গার্সিয়া-সঞ্জু প্রধাণরা। তবে গোয়ার অ্যাটাক ছিল অনেক বেশি সঙ্ঘবদ্ধ। অ্যাটাক আর
কাউন্টার-অ্যাটাকের এই খেলাতে দু-দলই বেশকিছু গোলের সুযোগ পেয়েছিল। আর এই সুযোগ
গুলির একটাও কেউ কাজে লাগাতে পারলে টাইব্রেকার অবধি ম্যাচ গড়াত না।
আইএসএল-এর প্রথম টাইব্রেকারটি ছিল নাটকে ঘেরা।
টসে জিতে প্রথম শট মারার সিদ্ধান্ত নেন গোয়ার অধিনায়ক গ্রেগরি। জিকো প্রথম
পেনাল্টি শটটি মারতে পাঠান তাঁর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্লেয়ার আন্দ্রে সান্তোসকে। আর
নাটক শুরু এখান থেকেই। প্রথম শটটিই ক্রস বারের অনেক উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন গোয়ার এই
ব্রাজলীয় মার্কি প্লেয়ারটি। এরপর জোসেমি ১-০ গোলে এগিয়ে দেন এডিকে কে। তারপর গোয়ার
হয়ে ১-১ করেন টোলগে। ফের ২-১ গোলে কোলকাতাকে এগিয়ে দেন মহঃ রফি। এরপর আবার নাটকের
দ্বিতীয় দৃশ্য। গোয়ার হয়ে কিক নিতে আসেন আফগান অধিনায়ক আমিরি। আর তাঁর শট এবার
ক্রস বারের উপর দিয়ে নয়, ক্রস বারে লেগে প্রতিহত হয়। আর এই দুই মিস-ই জয়ের
দোড়গোড়ায় নিয়ে যায় কোলকাতাকে। এরপর এডিকের হয়ে জোফ্রে ৩-১ আর ক্লিফোর্ড মিরান্ডা
গোয়ার হয়ে ৩-২ স্কোর করেন। আর নাটকের শেষ দৃশ্যে গোয়ার কফিনে শেষ পেড়েকটি পোঁতেন
কোলকাতার মার্কি ফুটবলার বোরজা ফার্নান্ডেজ।
কোলকাতাতে সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগ ড্র করার
পর সবার ধারণা ছিল গোয়ার মাঠে কিছুতেই গোয়াকে হারাতে পারবেনা কোলকাতা। ফুটবল
বিশেষজ্ঞরা তো কোলকাতাকে আন্ডার ডগ বলেই দিয়েছিলেন। এমনকি প্রেস কনফারেন্সে গোয়ান
কোচ জিকো জানিয়েছিলেন যে ‘কোলকাতাকে ঠিক সময় মতন হারাব বলে এতদিন হারাইনি’। আর এই সব কিছুর জবাব মাঠেই দিয়ে এলেন সৌরভ বাহিনী। এখন শুধু অপেক্ষা বাকি দু’টো দিনের। আগামী ২০ শে ডিসেম্বর সুপার শ্যাটারডে তে মুম্বইয়ে প্রথম আইএসএল-এর
প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হবে শচীন তেন্ডুলকরের কেরালা ব্লাস্টার্সের সাথে সৌরভ
গাঙ্গুলির অ্যাথলেটিকো দে কোলকাতা।

0 comments: