শিরোনাম

একা সেই মানুষ গুলি

ববি ভিন্টন এর সেই মিস্টার লোনলি গানের কথা মনে আছে কি? যেখানে একা সৈনিকটি তার একাকীত্বের কথা বলে গেছে সারা গান জুরে। বাস্তবেও এমন কিছু মানুষ থাকেন যাদের সঙ্গ দানের ক্ষেত্রে ভাগ্য বরাবর বিরূপ থেকেছে। কখনও তারা নিজেরাই বেছে নিয়েছেন তাদের একাকী জীবনের পথ। কিন্তু কি হয়েছে তার পরে তাদের পরিণতি? এমনি কিছু মানুষের কথা বলব আজ......
হেডভিগা গলিক
হেডভিগা গলিক- ১৯৬৬ সালে ক্রোয়েশিয়ায় নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয় গলিকের। এক কাপ চা নিয়ে সাদা কালো টিভির সামনে সময় কাটাতে বসেছিলেন গলিক। দীর্ঘ ৪২ বছর পর উদ্ধার হয় গলিকের দেহ। পুলিস বাড়িতে ঢুকে চেয়ারে বসা অবস্থায় উদ্ধার করে গলিকের দেহ। সামনে রাখা ছিল এক কাপ চা।
বারবারা সালিনাস নরম্যান
বারবারা সালিনাস নরম্যান- ২০১৩ সালের মে মাসে সালিনাসের মেক্সিকোর বাড়ি থেকে যখন তার দেহ উদ্ধার হয় তখন তা প্রায় মমিতে পরিণত হয়েছে। হঠাত্‍ হারিয়ে যাওয়া সালিনাসকে খুঁজতে শুরু করেন সালিনাসের জামাইবাবু লুই পন্স। সালিনাসের মৃত্যুর এক বছরেরও বেশি সময় পর উদ্ধার হয় তাঁর দেহ।
সিমোন অ্যালেন
সিমোন অ্যালেন- ইস্ট সাসেক্সের ব্রাইটনের বাসিন্দা সিমোন একাকীত্বে ভুগতেন। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে নিজের বাড়িতে মারা যান তিনি। দু'বছর পর ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। নিজের জীবনে এতটাই একা ছিলেন সিমোন যে এই দুই বছরে কেউ খোঁজ করেনি তাঁর। বহুমাস ভাড়া জমা না পড়ায় সিমোনের ঘরে আসেন বাড়ির মালিক। আর তখনই উদ্ধার হয় সিমোনের দেহ।
জেনেভা চেম্বারস-এর বাড়ি
জেনেভা চেম্বারস- এতটাই একাকীত্বে অভ্যস্ত ছিলেন চেম্বার যে প্রতিবেশীরা সঙ্গ দিতে চাইলেও তাদের ফিরিয়ে দিতেন। ২০১৩ সালের অগাস্ট মাসে তার ফ্লোরিডার বাড়ি থেকে এক ল্যান্ডস্কেপার উদ্ধার করে চেম্বারসের দেহ। পুলিসের ধারনা তার অন্তত ৩ বছর আগে মারা গিয়েছিলেন চেম্বারস। প্রতিবেশীরা ভাবতেন ২০০৯ সালেই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন চেম্বারস।
ডেভিড কার্টার
ডেভিড কার্টার- মিলওয়াকি নুইসেন্স কন্ট্রোল অফিসার ছিলেন ডেভিড কার্টার। ২০০৭ সালে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। বলেন নিউ মেক্সিকো চলে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু আসলে নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছিলেন কার্টার। চার বছর পর খালি বাড়ি ভেবে পরিদর্শনে আসেন রিয়াল এস্টেট এজেন্ট। সিঁড়িতে কার্টারের কঙ্কাল আবিষ্কার করেন তিনি।
নাতালিয়ে উড
নাতালিয়ে উড- অস্ট্রেলিয়ান মহিলা উডের মৃত্যু হয় ২০০৩ সালে। তাঁর দেহ উদ্ধার হয় ২০১১ সালে। এই ৮ বছরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সময় মতো জমা পড়েছে পেনসন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার তাগিদ অনুভব করেনি পরিবারের কেউ। অবশেষে তাঁর দেহ উদ্ধার করে এক আত্মীয়। তিনি জানান ২০০৩ সালে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। তারপর থেকে কথা বন্ধ ছিল দুজনের।
যত দিন যাচ্ছে তত আমরা ইট কাঠের জঙ্গলে হারিয়ে যাচ্ছি। একাকীত্ব কি অদ্ভুত ভাবে আমাদের গ্রাস করছে তা আমরা খেয়ালই করিনা অথবা খেয়াল করতে চাইনা। যখন বুঝি তখন অনেক অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই সময় থাকতে শুধু নিজের জন্য না বেঁচে একটু যদি অন্যের জন্যও বাঁচা যায় তার থেকে শান্তির আর কিছু নেই। 
খবর সূত্র- www.Oddee.com


0 comments: