নিরামিষ ভোজীরা সন্তান জন্মদানে পিছিয়ে আছে বাকিদের থেকে। কথাটি
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। তাদের শুক্রাণু কম এবং তা দুর্বলও। দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায়
দেখা গেছে,
নিরামিষ ভোজী পুরুষরা তাদের
সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, নিরামিষাশীদের কাছে জনপ্রিয় সয়াতে ভিটামিন ও নারী হরমোনের অভাবও এর একটি
কারণ।
গবেষকরা ৪৪৩ জন আমিষ ও ৩১ জন নিরামিষাশীকে নিয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এক
গবেষণা চালান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিলো, নিরামিষাশীদের শুক্রাণু বেশি সবল হয়।
যার কারণ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ। কিন্তু ২২ অক্টোবর ২০১৪ তে ফার্টিলিটি অ্যান্ড
স্টারলিটি জার্নালে বিস্ময়কর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধান গবেষক এলিজা অরজিলোস্কা গবেষণার বিষয় ও কারণ গুলি ব্যাখ্যা করতে
গিয়ে বলেন,
• নিরামিষাশীদের শুক্রাণুর ঘনত্ব
প্রতি মিলিলিটারে ৫০ মিলিয়ন কম হয়ে থাকে। ফলে শুক্রাণুর সক্রিয়তাও তুলনা মূলক কম।
৬০% মাংস খাওয়া লোকদের তুলনায় তাদের শুক্রাণুর ১/৩ % কার্যকরী হয়। নিরামিষাশীরা এই
ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।
• অন্য একটি করন হল, সয়া। গবেষণায় প্রমাণিত, সয়া শুক্রাণুর আকৃতিকে
সংকুচিত করে ফেলে। সয়াতে খুব বেশি পরিমাণে ফাইটো এস্ট্রোজেন থাকে। এটি পুরুষের
শরীরের একটি যা নারী হরমোনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে,ফলে শুক্রাণু
কম উৎপন্ন হয়।
• নিরামিষ ভোজীরা পরিবেষে বেরে ওঠা শিশুর ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকাল
থেকে শুক্রাণু তৈরি হওয়ার বিষ্যটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যারা সন্তান নেওয়ার
চেষ্টা করছেন তাদেরকে ৭৪ দিন আগে থেকে সয়া খাওয়া উচিত নয়। কারণ,আগের শুক্রাণুর পরিবর্তে নতুন শুক্রাণু তৈরি হতে ৭৪ দিন সময় লাগে।
• ভিটামিন বি-১২ এর অভাব। এটি
এস্ট্রোজেনকে নষ্ট করে ফেলে,তাই প্রচুর পরিমাণে শুক্রাণু
তৈরি হয়। মাছ এবং গরুর মাংসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১২ থাকে। তাই, যারা নিরামিষাশী তাদের ভিটামিন বি-১২ গ্রহণ করা উচিৎ।
২০১৪ এর আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিনে প্রকাশিত,হারভার্ড
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের করা আরেকটি সমান্তরাল গবেষণায় করে। তাতে শাকসবজিতে
ব্যবহৃত কীটনাশক বা পেস্টিসাইডের কারণেই নিরামিষাশীদের উর্বরতা ক্ষমতা কম হয়ে বলে
জানা যায়। ২০০৭ -২০১২ সালের মধ্যে বিজ্ঞানীরা ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ১৫৫
জন পুরুষের শুক্রাণু পরীক্ষা করে দেখেন।
দেখা গেছে,কম পেস্টিসাইড দেওয়া ফল ও শাকসবজি খাওয়াদের তুলনায় যারা
প্রচুর পরিমাণে পেস্টিসাইড দেওয়া ফল এবং শাকসবজি খেয়েছিল তাদের ১/৪ সক্রিয়
শুক্রাণুর পরিমাণ ৭০% কম। আর ১/৪ সাধারণ শুক্রাণুর পরিমাণ ৬৪% কম।
সোসাইটি ফর মেইল রি প্রোডাকশন অ্যান্ড ইনফার্টিলিটির সভাপতি পল জে. টারেক
বলেন পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্য থিক রাখতে হলে কম কীটনাশক দেওয়া আহার গ্রহণ করা
উচিত।


0 comments: