মেয়েদের স্বনির্ভরতার পথে
কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা একটা বিরাট প্রতিবন্ধকতা। কর্মরতা মহিলাদের এই বিষয়ে
কমবেশি কিছু অভিজ্ঞতা আছে। হয় সে নিজে তার শিকার হয়েছে অথবা কোন মহিলা সহকর্মীকে
আক্রান্ত হতে দেখেছেন বা শুনেছেন। যৌন হেনস্থার প্রতিবাদ করার পরিবর্তে বেশিরভাগ
ক্ষেত্রেই হয় ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়া হয় অথবা এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিছু কিছু
ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সহ্যের সীমা ছাড়ালে, প্রতিবাদের জায়েগাতে বিকল্প পথ নেওয়া হয়,
যেমন চাকরিটি ছেড়ে দেওয়া। আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্যই হল মহিলাদের
প্রতি যৌন হেনস্থা সম্পর্কে কিছু সচেতনতা সৃষ্টি করা।
যৌন হেনস্থা কি ?
কয়েকটি উদাহরণ দিলে ব্যাপারটি
স্পষ্ট হবে।
- · আপনার পুরুষ সহকর্মী আপনার আপত্তি সত্ত্বেও প্রায় নানা প্রকার অশ্রীল রসিকতা ও অঙ্গভঙ্গি করে থাকেন।
- · আপনার পোশাক নিয়ে নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুনতে হয়।
- · আপনার পুরুষ সহকর্মী বা “বস” নানা আছিলায়ে, আপনাকে স্পর্শ করে।
- · আপনার পুরুষ সহকর্মী বা “বস” অফিসে কাজের কথা ছাড়া আপনার ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাপারে বেশি উৎসাহী ও আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা আপত্তিকর প্রশ্ন বা কথাবার্তা শুনতে হয়।
- · গৃহকর্তা তার বাড়ির নিত্য কর্মের মেয়েটি বা রান্নার মেয়েটির দিকে অশালীন ভাবে দেখে বা অশ্রীল রসিকতা বা নানা আছিলায়ে স্পর্শ করার চেষ্টা করে।
এই সবই কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার
পর্যায়ে পরে। চাকরি করতে গেলে এই সব মেনে নিতে হবে ভেবে, অনেক মহিলাই এই সব
অন্যায়ে সহ্য করে নেন।
আপনার জেনে রাখা ভাল, সুপ্রিম
কোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার অর্থ –
- মহিলা সহকর্মীর সাথে যৌন রসাত্মক মন্তব্য করা বা কথাবার্তা বলা।
- মহিলা সহকর্মীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করা বা দাবি করা ।
- মহিলা সহকর্মীরকে অশ্রীল ছবি বা বই দেখানো।
- নানা আছিলায়ে মহিলা সহকর্মীরকে স্পর্শ করা বা করার চেষ্টা করা।
- অন্য যেকোনো দৈহিক, মৌখিক বা ইঙ্গিতপূর্ণ যৌন আচরণ করা।
খুব স্বাভাবিক ভাবে বহু মহিলাই
মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার প্রতিবাদ করা মানে, চাকরি যাবার সাম্ভাবনা,
পদোন্নতি রোধ, বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি। জেনে রাখুন,সুপ্রিম
কোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে, কাজের জায়েগাতে কোন মহিলাকে যৌন হেনস্থা করার অর্থ
হল, তার জীবিকা অর্জনের সাংবিধানিক অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা। বিষয়টি গোপন করতে
গিয়ে বহু মহিলাই শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থতার শিকার হন। সচেতনতা ও তার
যথাযথ প্রতিবাদই এই সমস্যার এক ও একমাত্র সমাধান।
কি করনীয় ?
- · কোন মহিলার প্রতি অন্যায়ে আচরণ হলে, সেটা যে অবাঞ্ছিত সেটা প্রমান করা দরকার।
- · উত্যক্তকারীকে আপনার আপত্তির কারন বিবরণসহ চিঠির মাধ্যমে রেজিস্টার পোস্টে পাঠিয়ে দিন। নিজের কাছে ও আপনার এই লিখিত প্রতিবাদের প্রমান রাখুন।
- · অফিসে অন্য সহানুভূতি সম্পণ্ণ সহকর্মীদের বিষয়টি জানিয়ে রাখুন। ঘটনার কোন প্রত্যক্ষদর্শী থাকলে, তাকে সাক্ষী হিসাবে রাখার চেষ্টা করুন।
- · অফিসে মহিলাদের প্রতি যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি থাকলে, তাকে বিষয়টি জানিয়ে রাখুন।
- · আইনী পরামর্শ নেবার জন্য কোন দক্ষ উকিলের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।
- · মনে রাখুন, আপনার পরিবারই আপনার শক্তি। যৌন হেনস্থার বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন করে রাখবেন না।
সৌভাগ্য হল, সুপ্রিম কোর্টের
নির্দেশিকা অনুসারে অফিস কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব মহিলাদের জন্য বৈষম্যমুক্ত
কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করা। আর এই বিষয়ে অনেক আইনও আরোপিত আছে। প্রয়োজন পড়লে,
প্রতিবাদের মাধ্যমে সে সব আইনের সাহায্য আপনি নিতে পারবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যোবসত
আমাদের দেশে বেশির ভাগ মহিলাই অসংগঠিত সংস্থাতে কাজ করে। তাই কর্মক্ষেত্রে যৌন
হেনস্থার হাত থেকে বাঁচার উপায়ে নিয়ে মহিলাদের আরও সচেতন ও সংগঠিত করা প্রয়োজন।




0 comments: