ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তকমা
পাওয়া খাজুরাহোর মন্দিরগুলির অপূর্ব ভাস্কর্য সারা পৃথিবীর মধ্যে অনন্য। তাই শুধু
ভারতবর্ষই নয়,সারা পৃথিবীর
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে এই অশ্চযশিল্পকর্ম চাক্ষুষ দেখতে।খাজুরাহোর
মন্দির গুলিকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। পূর্ব,পশ্চিম ও দক্ষিণ গোষ্ঠীর মন্দির । এর মধ্যে পশ্চিম গোষ্ঠীর
মন্দিরগুলির জনপ্রিয়তা অনেক বেশী।আর এর মধ্যে কান্ডারিয়া মহাদেবের মন্দিরটি সবচেয়ে
প্রসিদ্ধ।ঐতিহাসিকদের মতে এই মন্দিরগুলি প্রতিষ্ঠাকাল ৯৫০-১০৫০ খ্রিস্টাব্দ।
খাজুরাহোর এই মন্দিরগুলি
নিয়ে একটা সুন্দর গল্প প্রচলিত আছে। হেমবতী একজন দরিদ্র ব্রাহ্মণের সুন্দরী কন্যা।
তার রূপের খ্যাতিতে আকৃষ্ট হয়ে চাঁদ মর্তে আগমন করে। স্নানরতা হেমবতীকে দেখে
চাঁদের মনে কামভাব জেগে উঠে। চাঁদ ও হেমবতীর সঙ্গমের দরুন একটা সুন্দর পুত্র
সন্তান লাভ করেন হেমবতী। ছেলের নাম দেন চণ্দ্রবর্মণ। পুত্রকে নিয়ে হেমবতী
খাজুরাহোতে এসে বসবাস শুরু করেন। বিরাট শক্তির অধিকারি চণ্দ্রবর্মণ ধীরেধীরে রাজা হয়ে উঠেনও মায়ের
ইচ্ছানুসারে খাজুরাহোর মন্দিরগুলির নির্মাণ করেন। মোট ৮৫টি মন্দির নির্মাণ করা
হয়েছিল খাজুরাহোতে, যার মধ্যে বেশীরভাগই আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত।
 |
| খাজুরাহো মন্দিরের গায়ে প্রতিটি ভাস্কর্যের নিজস্ব একটা গল্প আছে |
 |
| এই ছবিতে দেখা যাছে,মাঝের নারী মূর্তিটি আয়নাতে নিজের চেহারা দেখছে ও
কপালে সিঁদুর পড়ছে |
 |
| এই ছবিতে দেখা যাছে মাঝের নারী ও পুরুষ পরকীয়ায় লিপ্ত।বাম পাশের পুরুষটি অবাক
হয়ে তাদের দেখছে আর ডান দিকের মহিলাটি মুখ ঘুরিয়ে একাকীত্ব বোধ করছে |
 |
| এটি খাজুরাহোর বিখ্যাত ভাস্কর্য, এখানে একটা পুরুষের সাথে একাধিক নারী সঙ্গমে লিপ্ত
দেখাছে |
 |
| পাঠশালাতে পণ্ডিত মশাই পড়াচ্ছেন |
 |
| এই ছবিতে দেখা যাছে বামদিকের মহিলাটির পায়ে কাটা ফুটেছে। ডাক্তার তার চিকিৎসা
করছে |
 |
| এখানে দেখা যাছে একটি পুরুষ ঘোড়ার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত, তাই দেখে মাঝের পুরুষটি লজ্জাতে মুখ লুকচ্ছে |
 |
| এখানে দেখা যাছে, মাঝের নরনারীটি প্রেমে মত্ত, আর তাদের চারিপাশে দাসীগণ নানা প্রকার বাদ্যযন্ত্র
নিয়ে সুরে তালে প্রেমময় পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এটি সমাজের এক উচ্চবিত্ত
শ্রেণীর সামাজিক প্রতিপত্তির প্রতিফলন মাত্র |
 |
| আবার এখানে দেখা যাচ্ছে, ডানপাশের প্রেমিকজুগলটি প্রেমে বিপত্তি ঘটাচ্ছে এক
বানর। তাকে লাঠি দিয়ে তাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে |
 |
| ডানপাশের মহিলাটি কাগজ ও কলম নিয়ে লিখছে, তার মুখের ভাব দেখে অনুমান করা হয় যে সে তার প্রেমিক
কে চিঠি লিখছে |
সেই যুগে মানুষের জীবনধারণের
বিভিন্ন চিত্র, মানবিক আবেগের
মুহূর্তগুলি সুন্দরভাবে ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রেম,
ভালবাসা, যৌনক্ষুদা, পাপ,
লালসা, হতাশার মুহূর্তগুলি মন্দিরের গায়ে খোদাই
করা আছে। পুরুষ ও নারীর সম্পর্ক, মানব ও নর্তকী, বিভিন্ন
জন্তুজানোয়ারের মূর্তিগুলি দেখার মত।মন্দিরগুলি দর্শনের সময় একজন গাইড থাকলে ভাল
হয়।
খাজুরাহোর পূর্ব,
পশ্চিম ও দক্ষিণ গোষ্ঠীর মন্দিরগুলিদেখা শেষ করে আপনি যেতে
পারেন “স্টেট
মিউজিয়াম অব ট্রাইবাল আর্টে”। এছাড়া খাজুরাহো থেকে কাছাকাছির মধ্যে যাওয়া
যেতে পারে “পাণ্ডব
ফলস”।
****************************
 |
| লেখা ও ছবিঃ জীবক চ্যাটার্জি |
[পরিচিতি- বর্তমানে একটি অন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কর্মরত। দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়ান তার নেশা। ]
0 comments: