চিরতরে স্তব্ধ হল নৃত্য সম্রাজ্ঞী সিতারা দেবী-র পায়ের
ঘুঙুর। যে ঘুঙুরের ও সাথে নাচের বোলের শব্দ টানা তিন ঘণ্টা বেজেছিল কবিগুরুর কানে।
যার প্রতিভা রবীন্দ্রনাথ কে এক কথায় বাধ্য করেছিল দু হাত বাড়িয়ে আশীর্বাদ করতে, সেই সিতারা দেবী মঙ্গলবার সকালে মুম্বাইয়ের যশলোক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস
ত্যাগ করলেন। বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।
সোমবার সকাল থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভেন্টিলেটরে রাখা হয় তাঁকে।
সিতারা নামে সকলের কাছে পরিচিতি হলেও বাবা-মা নাম
রেখেছিলেন ধনলক্ষ্মী। ১৯২০-র ৮ নভেম্বর‚ কলকাতায় এক ধনতেরাসের রাতে জন্ম হয়েছিল বলে তার নাম রাখা হয়
ধনলক্ষ্মী। ডাকনাম ছিল ধন্নো। বাবা সুখদেব
মহারাজ ছিলেন প্রবাদপ্রতিম কত্থক শিল্পী। মা‚ মৎস্য কুমারী নেপাল রাজবংশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। স্কুলের শিক্ষকরা “সাবিত্রী
সত্যবান”দেখে
ধনলক্ষ্মীর নতুন নাম দেন ‘সিতারা’।
নাচকে ভালবেসে বালিকা বয়সে বিয়ে করতে রাজি ছিলে না ‘ধন্নো’।
পরবর্তী জীবনে দু বার বিয়ে করেন। প্রথমবার 'মুঘল এ আজম'-এর নির্দেশক কে আসিফকে। পরে প্রতাপ বরোতকে। কিন্তু কোনও বিয়েই সুখের হয়নি।
সেখান থেকেই নিজেকে আরও বেশি ডুবিয়ে রাখেন নাচে।
বারাণসীতে কত্থক চর্চা করতে গিয়ে সুখদাস এবং তার
পরিবারকে শুনতে হয় গঞ্জনা। পরবর্তী কালে বাবা মায়ের আদরের ধন্নো প্রমাণ করেন যে, কৃষ্ণের প্রতি শ্রী রাধার নাচ যতটা পবিত্র ঠিক ততটাই পবিত্র প্রকাশ্য
মঞ্চে ভারতীয় মেয়েদের নাচ।
বলিউডে কত্থক নাচ জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন সিতারা দেবী।
ঊষা হরণ,নাগিনা,রোটি, ওয়তন,অঞ্জলি ছবিতে তাঁর নাচের মাধ্যমে মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। মাদার ইন্ডিয়া
ছবিতে হোলির গানে তাঁর নাচ ছিলে বলিউডে কেরিয়ারের শেষ নাচ। এরপর বলিউড থেকে সরে
গিয়ে ক্লাসিকাল ডান্সার হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।
সঙ্গীন নাটক অ্যাকাডেমি,পদ্মশ্রী,কালিদাস সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। তবে শোনা যায়‚ পদ্ম ভূষণ নিতে চাননি তিনি, তাঁর মতো শিল্পীর যোগ্য
সম্মান হতে পারে শুধু ভারতরত্ন।


0 comments: