বুঝলে
মিনু শীতের রকমারি টাটকা সব্জিতে বাজার পুরো ছেয়ে আছে। এই বলতে বলতে বাজারের থলিটা
বাড়িয়ে ধরলেন স্ত্রী ললিতার দিকে। থলি থেকে উঁকি দিচ্ছেন মুলো বাবাজীবন। রান্না
ঘরের দিকে নজর জেতে ললিতা দেখলেন তরকারির ঝুড়িতে এখনও মুলোর স্তূপ। স্ত্রীর রাগের
কারণ আন্দাজ করে প্রবীর বিষয়টা হাল্কা করার চেষ্টা করলেন। বললেন, বাঙ্গালীর ঘরেমাত্র
কটা দিনের অতিথি মুলো,একটু ভালমন্দ না রাঁধলে কি আর তার মান থাকে? স্বামীর কথায়
রাগের বদলে হেসে ফেললেন ললিতা ওরফে মিনু। ঠিক আছে তা হলে মুলোর সম্মানে আজ “মুলোর
পাতুরি” রান্না করা যাক।
উপকরন সময়-৬০ মিনিট
মুলো- ৪ টে
বড় সাদা
নারকোল
বাটা- আধ খানা
কালো সরষে
বাটা- দুই বড় চামচ
সরষের
তেল- দুই/তিন বড় চামচ
নুন,
চিনি-স্বাদ মত
ধনেপাতা
ও লঙ্কা- কুচি স্বাদ মত
প্রণালী-প্রথমে
সাদা মুলো গুলি খোসা ছাড়িয়ে, ছোট কুচি করে কেটে নিতে হবে। হাত দিয়ে চেপে চেপে মুলো
থেকে যতটা পারা যায় জল বার করতে হবে। এবার মুলোর সাথে নারকোল বাটা,সরষে বাটা,তেল,লঙ্কা
বাটা/কুচি, ধনেপাতা কুচি,নুন ও চিনি স্বাদ মত দিয়ে,ভাল করে মেখে মুলোর পাতুরির
মিশ্রণটি তৈরি করতে হবে। এবার পাতুরির জন্য কলাপাতা তৈরি করুন। কলাপাতাটিকে প্রথমে
প্রয়োজনা মত কেটে, আগুনে হাল্কা সেঁকে, অল্প তেল মাখিয়ে নিন। মুলোর মিশ্রণটি কে
কলাপাতার মধ্যে ঢেলে, ভালো করে মুড়ে, বেঁধে নিতে হবে। তাওয়া অথবা নন-স্টিক প্যানে
অল্প তেল মাখিয়ে কলাপাতায় মোড়ানো মুলোর মিশ্রণটি বসিয়ে দিন হাল্কা আঁচে। প্রায় ৪০
মিনিট দুই পিট ভাল করে সেঁকে নিন। ভাতের সাথে পরিবেশন করুন
মুলোর পাতুরি।
*******************
| ছবিঃ সোমা মজুমদার |
[পরিচিতি: লেখিকা গৃহবধূ, ইংলিশে এম এ ও টিচার্স ট্রেনিং নিয়েছেন। বর্তমানে স্বামী,কন্যা,শ্বশুর,শাশুড়িকে নিয়ে সংসারে ব্যস্ত। সখ হচ্ছে বিভিন্ন রকম রান্না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা।]

0 comments: