৪১) কালীঘাট- কলকাতার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হল কালীঘাট। প্রচলিত বিশ্বাস
অনুসারে এখানে ছিটকে পড়েছিল সতীর ডান পায়ের পাতা। শিব এখানে নকুলিশ বা নকুলেশ্বর
নামে পূজিত হন।
৪২) কুরুক্ষেত্র- কুরু-পাণ্ডবদের রণাঙ্গন পরবর্তী কালে শক্তি পীঠ হিসেবে
পরিচিত। বিশ্বাস করা হয় এখানে পড়েছিল সতীর ডান পায়ের গোড়ালি। দেবীর নাম এখানে
সাবিত্রী বা স্থাণু। শিব এখানে পরিচিত অশ্বনাথ নামে।
৪৩) বক্রেশ্বর- বীরভূম জেলার এই তীর্থক্ষেত্রে পড়েছিল সতীর দুই ভ্রূয়ের
মধ্যবর্তী অংশ। দেবই এখানে মহিষাসুর মর্দিনী রূপে পূজিতা হন। শিব পূজিত বক্রনাথ
নামে। জনশ্রুতি অনুসারে, ঋষি অষ্টাবক্র এখানে সিদ্ধিলাভ করেন বলে মনে করা হয়।
৪৪) যশোর – দেবই সতী এখানে যশোরেশ্বরী রূপে পরিচিতা।
শিব এখানে পরিচিত চন্দ্রধর নামে। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী সতীর দু হাতের কিছু অংশ
পড়েছিল এই স্থানে।
৪৫) নন্দীপুর- বহুকাল আগের নন্দীপুর গ্রাম এখন ইতিহাস। সেই গ্রামের দেবী
নন্দিনী এখন অধিষ্ঠিতা সাঁইথিয়া শহরে। প্রচলিত ধারণা, সতীর কণ্ঠহার পড়েছিল
এখানে। শিব এখানে পূজিত হন নন্দীকিশোর নামে।
৪৬) বারানসি- পুরাণে অনুসারে,মহাপ্রলয়ের পরেও
অস্তিত্ব টিকে থাকবে এই প্রাচীন শহরের। প্রধানত বাবা বিশ্বনাথের জন্য বিখ্যাত হলেও কাশীধাম কিন্তু একটি শক্তি পীঠ। জানা যায়,
সতীর কর্ণ কুণ্ডল বা কানের দুল পড়েছিল এখানে। তিনি এখানে
বিশ্বলক্ষ্মী ও মহাদেব এখানে কাল রূপে আরাধিত সকলের কাছে।
৪৭) কন্যাকুমারী- তিন সাগরের (দক্ষিণ ভারতে ভারত মহাসাগর,আরব সাগর এবং
বঙ্গোপসাগর) সঙ্গমে অধিষ্ঠিত দেবী কন্যার থান। এই ত্রিবেণী সঙ্গমে তিনি কুমারী।
অন্যদিকে দেবই আবার ভগবতী বা ভদ্রকালী হিসেবেও পূজিতা। শিব এখানে পরিচিত নিমিষা
নামে।
৪৮) জাফনা- যুদ্ধের ইতিহাসের পাতা ছারাও জাফনার আর এক পরিচয় সতীপীঠ রূপে।
প্রবাদ মতে,প্রাচীন সিংহলের এই অঞ্চলে পড়েছিল সতীর পায়ের মল। সতী এখানে ইন্দ্রাক্ষ্মী
ও শিব হলেন রক্ষশেশ্বর। পুরাণ মতে, স্বয়ং দেবরাজ ইন্দ্র
ইন্দ্রাক্ষ্মীর মূর্তি বানিয়ে পুজো করতেন ।
৪৯) বৈরাট- রাজস্থানের জয়পুরের কাছে অবস্থিত বৈরাট। সতী এখানে অম্বিকা এবং
শিব হলেন অমৃত। প্রচলিত বিশ্বাস মতে, এখানে দেবীর পায়ের কিছু অংশ পড়েছিল |
৫০)বিভাস- বাংলার আর এক সতীপীঠ। পূর্ব মেদিনীপুরের কাছে তমলুকের এই
তীর্থক্ষেত্রে পড়েছিল দেবীর বাঁ পায়ের গোড়ালি। সতী এখানে ভীমরূপা বা বর্গভীমা। শিব
হলেন সর্বানন্দ।
৫১) ত্রিসোতা- জলপাইগুড়িতে তিস্তার তীরে শালবাড়ি গ্রামে পড়েছিল সতীর বাঁ
পায়ের পাতা। তিনি এখানে ভ্রামরী এবং শিব
পূজিত হন ঈশ্বর রূপে।
এছাড়াও বিভিন্ন ধরম গ্রন্থ যেমন-শিব পুরাণ,দেবী ভাগবত,কলিকা
পুরাণ এবং অষ্টশক্তি শনাক্ত করে চারটি প্রধান শক্তিপীঠ (কেন্দ্র), যথা-বিমলা (পদ কাণ্ড) (ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের অভ্যন্তরে),তারা তারিণী(স্থান কাণ্ড,পূর্ণগিরি,স্তন) (ওড়িশার বহরমপুরের নিকটে),কামাখ্যা (যোনি
কাণ্ড) (আসামের গৌহাটির নিকটে) ও দক্ষিণা কালিকা (মুখ কাণ্ড) (কলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ) যেগুলি সত্য যুগে সতী মাতার মৃতদেহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছিল।
মাতা সতীর দেহাবশেষ থেকে উৎপত্তি ঘটে শক্তি পিঠের, যা নিয়ে মতান্তরের
শেষ নেই। তা সত্ত্বেও আজন্ম কাল থেকে এই তর্ক-বিতর্ক নিয়েই দেবী সকলেরই আরাধ্য।
(সমাপ্ত)

0 comments: