শীতের সকালে এক কাপ ধোঁওয়া ওঠা
কফি সারা দিন টাকে চার্জ করার জন্য যথেষ্ট। কফির প্রেমে পাগল হওয়ার আগে তার
ভাল-মন্দ দুই গুণ সম্পর্কে যেনে রাখা স্বাস্থ্য সম্মত।
মন্দ কফি
আপনি কি জানেন সব থকে প্রচলিত
ও ক্রিয়াশীল মাদক হল ক্যাফেইন। যা কফিতে যথেষ্ট পরিমাণে উপস্থিত। মানসিক স্বাস্থ্য
বিষয়ক বিখ্যাত গবেষণাপত্র “ডিএসএম ৫” ম্যানুয়ালে
ক্যাফেইন সৃষ্ট মানসিক সমস্যাকে অ্যালকোহল,নিকোটিন,ক্যানাবিস ও হ্যালুসিনেশন তৈরি করে এমন পদার্থ থেকে সৃষ্ট
মানসিক সমস্যার সাথে একই সারিতে রেখেছে।
অস্থিরতা,নার্ভাসনেস,উত্তেজনা,রাগ,হজমের
অসুবিধা,পেশীতে টান পড়া,অকারণে কথা বলা,অনিদ্রা,দ্রুত ও অনিয়মিত হার্ট বিট এবং অন্যান্য আরও অনেক
উপসর্গ ক্যাফেইন ইনটক্সিকেশন বা আসক্তির লক্ষণ।
কফি পানের সময় বা কিছুক্ষণ পরেই আপনি যদি এগুলির মধ্যে পাঁচ বা বেশি উপসর্গ টের পান তবে তা কফি আসক্তির লক্ষণ হওয়া সম্ভব। ক্যাফেইন-উইথড্রল গবেষণার মাধ্যমে যানা গেছে অতিরিক্ত কফি পান বন্ধ করে বা কমিয়ে দিলে মাথাব্যথা, অবসাদ, অমনোযোগ, হতাশ ভাব এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়।
কফি পানের সময় বা কিছুক্ষণ পরেই আপনি যদি এগুলির মধ্যে পাঁচ বা বেশি উপসর্গ টের পান তবে তা কফি আসক্তির লক্ষণ হওয়া সম্ভব। ক্যাফেইন-উইথড্রল গবেষণার মাধ্যমে যানা গেছে অতিরিক্ত কফি পান বন্ধ করে বা কমিয়ে দিলে মাথাব্যথা, অবসাদ, অমনোযোগ, হতাশ ভাব এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়।
ক্যাফেইন থামিয়ে দেওয়া বা
ক্যাফেইন উইথড্রলের উপসর্গগুলি ক্ষণস্থায়ী। ক্যাফেইন বন্ধ করার প্রতিক্রিয়া আবার
খুব তাড়াতাড়িই ঠিক হয়ে যায়। ক্যাফেইন থাকে মূলত কফি,চা,চকোলেট, মাথা
ব্যথার ওষুধ,এনার্জি ড্রিংকস ও কিছু অ্যালকোহলিক পণ্যতে। এমনকি জলেও। কফির
ভিতরের উপাদান ক্যাফেইন অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
ভাল কফি
কফির আছে নানা গুণ। গবেষকদের
সম্প্রতি পাওয়া এক তথ্যানুসারে কফি মানুষের লিভার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
১৯৯০ সালে থেকে বিভিন্ন
প্রজাতি,স্থান এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১৮০,০০০ হাজার মানুষের ওপর এক
গবেষণা চালানো হয়। আমেরিকার সান ডিয়েগোতে ৯ এপ্রিল ২০১৪ তে হয়ে যাওয়া অ্যামেরিকান
অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যান্সার রিসার্চের বার্ষিক অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ
করা হয়।এতে দেখা গেছে প্রতিদিন যারা অন্ততপক্ষে এক থেকে তিন কাপ কফি পান করেন
তাদের লিভার ক্যান্সার হবার আশঙ্কা সপ্তাহে ৬ কাপ বা তার চেয়ে কম কফি পানকারীদের
চাইতে ২৯ শতাংশ কম। এবং আরও বলা হয়,
প্রতিদিন যারা ৪ কাপ কফি পান করেন
তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমে যায়। হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা নামের
সবচাইতে কমন লিভার ক্যান্সারের কথা মাথায় রেখেই এই পরীক্ষাগুলি করা হয়েছে।
তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্য,গবেষণাটি
শুধুমাত্র অ্যাসোসিয়েশনকে দেখানোর জন্যই করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে কফি পানকারীদের
মধ্যে কফি পান ছাড়াও আরও কোন মিল আছে যেটা তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য
করে। লিভার ক্যান্সারের সাথে সাথে কফি পান মাথা, ঘাড়,মূত্রনালি
ও মূত্রাশয়,পেট,কণ্ঠনালী এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
ছোটবেলা থেকেই আমরা যেনে এসেছি
সব কিছুরই ভাল এবং মন্দ দিক আছে। তাই কফি পান করুন কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত নয়।
অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে মানুষের মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা থেকে যায়।
আর্টিকেল সোর্স: V. Wendy Setiawan, Ph.D.,
assistant professor, department of preventive medicine, USC Norris
Comprehensive Cancer Center, Los Angeles; Susan Gapstur, Ph.D., vice president,
epidemiology, American Cancer Society, Atlanta; April 9, 2014, presentation, American
Association for Cancer Research annual meeting, San Diego.




0 comments: