শিরোনাম

ভাই ফোঁটার ইতিবৃত্ত

ভাইকে ফোঁটা দেওয়ার জন্য থালা প্রস্তুত, ছবিঃ গুগুল
ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা
যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা
যমের দুয়ারেও কাঁটা দিয়ে ভাইকে রক্ষা করবে। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে সেই পণটাই করে বোনেরা।  ভাই-বোনের এই দৃঢ় সম্পর্ককে উৎসবের আকার দিতেই প্রতি বছর চলে আসে ভাইফোঁটা বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া।
ভাইফোঁটা প্রধানত: হিন্দুদের একটি উৎসব।এই উৎসবের পোশাকি নাম ভ্রাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠান। দীপান্বিতা কালীপূজোর পর শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে বাংলা তথা ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া উৎসব পালন হয়। পশ্চিম ভারতে এই উৎসব ভাইদুজ নামে পরিচিত। সেখানে দীপাবলির শেষ দিন থেকে পাঁচ-দিনব্যাপী এই উৎসব পালন করা হয়। আবার, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটা পরিচিত ভাইবিজ নামে। নেপালে ও উত্তর-পূর্ব ভারতে এই উৎসব কে বলা হয় ভাইটিকা। এই অঞ্চলে ভাইটিকা একটি অন্যতম প্রধান উৎসব।
ভাইটিকা-নেপালে, ছবি গুগুল

এই উৎসবের আরও একটি নাম হল যমদ্বিতীয়া। পুরাণ মতে বিয়ের পর যমুনা তাঁর ভাই যমরাজকে বহুবার নিমন্ত্রণ করেছিলেন তাঁর বাড়িতে আসার জন্য। কিন্তু নানান কাজে ব্যস্ত থাকায় যমুনার বাড়িতে আসা হচ্ছিল না। শেষপর্যন্ত একবার এলেন। সেদিন ছিল কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া। যমুনা তাঁর ভাই ও ভাইয়ের পরিবারকে নিজের হাতে রান্না করে ও নিজের হাতেই পরিবেশন করে খাওয়ালেন। যমরাজ তাতে অত্যন্ত খুশি হয়ে যমুনাকে বর প্রার্থনা করতে বললেন। যমুনা বর চাইলেন যে আজকের দিনে যে ভাই বোনের বাড়ি যাবে ও তার বাড়িতে আহার করবে সে কখনও নরক দর্শন করবে না ও হঠাৎ মৃত্যুও লাভ করবে না। যমরাজ খুশি হয়ে সেই বরই দিলেন।তিনি আরও একটা বর দিলেন। আজকের দিনে যে বোন তার ভাইকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াবে সে কোনও বিধবা হবে না। সেই থেকে এই দিনটি যমদ্বিতীয়া বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।  অন্য মতে,নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর কৃষ্ণ যখন তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে আসেন,তখন সুভদ্রা তাঁর কপালে ফোঁটা দিয়ে তাঁকে মিষ্টি খেতে দেন। সেই থেকে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়।
ভাইদুজ, ছবি গুগুল

পশ্চিমবঙ্গে ভাইফোঁটা একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান হলেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পালিত হয়। এই দিনটিতে বোনেরা যেমন তাঁদের দাদা বা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেন,তেমনই ভাইরাও বোনেদের উপহার দিয়ে থাকেন। ভাইফোঁটার মিষ্টি খেয়ে ভাই-বোনের সম্পর্ক আরও মিষ্টি হয়ে ওঠে।

0 comments: