শিরোনাম

ঘোরার টুকিটাকি টিপস-পর্ব ২ (পাহাড়)

অবশ্যই করনীয়-

পাহাড়ে ঘুরতে গেলে কিছু বাড়তি সতর্কতা দরকার পরে। কারণ আমরা যারা সমতলের মানুষ তাদের পক্ষে চট করে পাহাড়ি নিয়ম কানুন রপ্ত করা সম্ভব নয়। তবে যারা ট্র্যেক করেন তাদের কথা আলাদা, এক্ষেত্রে আমরা ধরে নিতে পারি তারা আগের থকেই কিছু নিয়ম বা ট্রেনিং-এ অভ্যস্ত হয়েই পাহাড়ে ট্রেক করতে যাবেন। পাহাড়ে ট্রেকিং বা অভিযানে যাওয়ার আগে আপনার বেড়ানোর রুট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা অবশ্যই করে নিতে হবে। নিজের সুরক্ষার স্বার্থে সঠিক ম্যাপ আর ট্রেকিং-এর সরঞ্জাম সর্বদা কাছে রাখুন। পাহাড়ের বিপদ-আপদ,অসুখ-বিসুখ এসবের মোকাবিলা করা সম্বন্ধেও স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার।

যা মনে রাখবেন-
    সকাল সকাল শুরু করা সকাল সকাল শেষ করাই হল পাহাড়ে চড়ার মূলমন্ত্র। দুপুরের পর থেকেই পাহাড়ি আবহাওয়ার বদলাতে থাকে। যেকোনো ট্রেকিং বা অভিযানে এই কথা মেনে চললে অনেক অবাঞ্ছিত বিপদ এড়ানো যায়।
    পাহাড়ি রাস্তায় কখনও একা চলার ঝুঁকি নেবেন না। অন্তত একজন সঙ্গী থাকলেও পথে সুবিধা হয়।
    বেশি উচ্চতায় ওঠার আগে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতে হবে। মোটামুটি ২৫০০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছালে পারিপার্শ্বিক পরিবেষের সাথে আগে নিজেকে মানিয়ে নিতে ১/২ দিন জায়গাটিতে বিশ্রাম নিলে ভাল।
    ধূমপান,মদ্যপান করবেন না।
    অযথা চিৎকার-চেঁচামেচি,জোরে গান শোনা কখনই উচিৎ নয়।
    প্লাস্টিক বা অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ ফেলে পাহাড়ের পরিবেশ দূষিত করবেন না।
    পাহাড়ে আপনার গতি হবে সবসময় মাঝারি বেগের, খুব আস্তে/খুব জরে নয়। নিজের ক্ষমতা বুঝে এগিয়ে চলুন তাতে বিপদ কম হবে। পাহাড়ে চড়ার সময় কম কথা বলুন, পরিশ্রম অনেকটা কম হবে।
    অতিরিক্ত জিনিষপত্র এড়িয়ে চলুন। এতে নিজের বা যে মানুষটি আপনার বোঝা বইছে তার কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে।
    পাহাড়ে দলনেতার নির্দেশই প্রথম ও শেষ কথা।
    পথচলার সময় খেলার ছলেও কখনও পাথর গড়াবেন না,এতে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে।
    পথ হারিয়ে ফেললে বা অন্য কোন বিপদে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে মাথা ঠাণ্ডা রাখুন, বিপদের মোকাবিলা করা সহজ হবে।
    কোন দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেওয়ার চেষ্টা করুন।
    দূরত্ব নির্ণয়ের সময় নিজেদের ম্যাপের ওপর নির্ভর করুন। স্থানীয়দের আন্দাজের সঙ্গে আপনার হিসেব নাই মিলতে পারে। তবে পাহাড়ের সময় দিয়ে দূরত্ব মাপাই উচিত হবে।
    নদী-নালা বা ঝরনা অতিক্রমের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন। বেলা যত বাড়বে এদের গতিবেগ ও বাড়বে।
    চলার সময় পাথুরে পথ বা বোল্ডারের ওপর জমে থাকা বরফের আস্তরণ সম্বন্ধে সতর্ক থাকতে হবে।
    যথেষ্ট পরিমাণে জল পান করুন।  সরাসরি নদী/ঝরনার জল পান করবেন না। জল ফুটিয়ে/জিওলিন দিয়ে পান করুন।
    না যেনে কখনোই ফলমূল খাওয়া/অচেনা লতাগুল্মে হাত দেবেন না।
    স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার বজায় রাখুন, কারণ বিপদে পড়লে এঁরাই আপনার সহায় হবেন। বিনা অনুমতিতে মহিলাদের ছবি তুলবেন না।
    সামনে অন্য কোন দল থাকলে তাদের অনুমতি না নিয়ে অতিক্রম করে যাওয়াটা ভদ্রতা নয়।
    অন্য কোন দলের দুর্ঘটনা ঘটলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াটাই এই পথের রীতি।

0 comments: