![]() |
| মিষ্টি মধুর বোন ও ভাইয়ের সম্পর্ক |
ছোটদের
ভাইফোঁটা হয়ে উঠুক আনন্দময়
আজ
লেখাটা শুরু করি একটা আট বছরের মিষ্টি মেয়ে জয়ী আর তার পাঁচ বছরের দুষ্টু ভাই জয়ের
একটা ছোট কথোপকথন দিয়ে-
‘জয়ী-
ভাইটা আমার একটা রসগোল্লা,তাই না ভাই ?
জয়- না।
জয়ী-তা
হলে রস মালাই ?
জয়–না না, একদমই না
জয়ী-
তাহলে, ভাইটা আমার একটা ছোট্ট জিলেবি ?
জয়- নানা, আমি
জিলেবিও না
জয়ী- ও
বুঝেছে, আমার ছোট্ট ভাই থেকে বেশী মিষ্টি তো আর কিছু হতেই পারেনা’
এই
সামান্য কটা কথা দিয়েই বোঝা যায় কত সহজ,সরল,নিষ্পাপ এই ভাই বোনের সম্পর্ক।
ছোটবেলায় একে অপরের প্রথম বন্ধু হল ভাই ও বোন। ছোট ছোট জিনিস নিয়ে মারামারি,খাবার
নিয়ে হাতাহাতি,ছোট ছোট ঘটনাই কান্নাকাটি আর খুনসুটি লেগেই থাকে
সারাদিন।কিন্তু কেউ কাওকে ছেড়ে এক মুহূর্তও থাকতে পারে না। এই ছোট্ট দুটো ভাই
বোনের ভালবাসা একে বারে নিখাদ,অন্য কিছুর সাথে এর তুলনাই হয়েনা।
ই-কার্ড,ই-মেইল,ই-উইস,ই-গিফটের
যুগে মানব সম্পর্ক গুলিও কেমন যেন যান্ত্রিক হয়ে যাছে। স্বাভাবিক ভাবেই ভাইবোনের
সম্পর্ক এর থেকে বাদ যাচ্ছেনা। এই যান্ত্রিকতা অর্থাৎ সম্পর্কের দূষণগুলি থেকে
আমরাই শুধু পারি আমাদের সন্তানদের দূরে রাখতে। তাই সব কাজ ফেলে,শত
ব্যস্ততার মাঝেও,এই বিশেষ দিনটিতে ছোটদের ভাই ফোঁটাকে করে তুলতে হবে
আরও আনন্দময় আর মজাদার।
![]() |
| ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা |
ছোটদের
ভাইফোঁটাকে “বিশেষ” করে
তুলতে,সহজ কটা টিপস রইল আপনাদের জন্য-
• গল্প আর ছড়া তো সব বাচ্চাই পছন্দ
করে। ভাইফোঁটা কেন, কি ভাবে শুরু হল আর তার ইতিহাস, গল্প করে
বলুন। যম ও তার বোন যমুনার গল্প ছোটদের ভাল লাগবে। আর ভাইফোঁটার গুরুত্ব উপলব্ধি
করতে সাহায্য করবে।
• আগে ভাগেই মুখে মুখে ভাইফোঁটার
ছড়াটা “ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা,যমের
দুয়ারে পড়ল কাঁটা” মুখস্থ করিয়ে দিন।
• ভাই ফোঁটার পুরো আয়োজনে বাচ্চাদের
অংশ নিতে দিন। যেমন-চন্দন বাটা, দূর্বা যোগাড় করা মিষ্টির থালাটা সাজানো, আসনটা
পাতা ইত্যাদি। শিশুদের বেশি করে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ দিলে, ওদের
আনন্দ আরও বাড়বে।
• ভাইফোঁটার মিষ্টি হোক বা চকলেট, ওদের
নিজেদের পছন্দ করার সুযোগ দিন। এর ফলে আপনি কিন্তু মজার ছলে ডিসিপ্লিন, কাজের
দায়িত্ব বোধ বিষয়গুলিকে ছোটদের কাছে
ঝালিয়ে নিতে পারবেন।
• বাচ্চাদের কাছে ভাইফোঁটার সবচেয়ে
বড় আকর্ষণ হল “গিফট”। বাচ্চাদের গিফট ওদের নিজেদের
পছন্দ করতে দিন। খালি আপনি আপনার বাজেটটা বলে দিন।
• বাঙালিদের ভাইফোঁটাই খাওয়া দাওয়ার
একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কিন্তু বাচ্চাদের মেনু ওদের নিজেদের পছন্দ করতে
দিন।
• একেবারে বার্থডে-পাটির মত না হলেও, এই বিশেষ
দিনটিকে আরও আনন্দময় করার জন্য বাড়িটি সাজিয়ে ফেলতে পারেন ছোটদের মন মত করে।
• ছোটদের সামনে নিজেদের ছোট বেলার
ভাই ফোঁটার গল্প গুলো করুন। এর ফলে আপনার ছোট্টটি ভাইফোঁটার আনন্দ যে কতটা মজাদার
সেটা বুঝতে পারবে। আর বলা যায়না এই গল্পের মাধ্যমে আপনিও আপনার ছোট বেলার স্মৃতি
গুলো হাতরে পুরনো সম্পর্ককে নতুন মোড়কে খুঁজে পেলেন।
এই “ই”-যুগে,পারিবারিক
ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বলার অপেক্ষা রাখেনা,ভাইফোঁটা
ভাইবোনের একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে
সাহায্য করে। শুধুই নিয়ম পালন নয়,ভাইফোঁটার ব্যস্ততার ফাঁকে বাচ্চাদের জন্য দিনটি “বিশেষ” করে
তুলতে হবে,যাতে ওরা আলাদা ভাবে দিনটিকে মনে রাখতে পারে সারাবছর।


bah !! darun laglo pore .....
ReplyDelete