![]() |
| ছবি ও লেখা প্রদীপ কুমার বিশ্বাস |
*********************************************
পূর্বোক্ত ঘটনাঃ জিম্ব্বাবোতে সেদিন এবং তার পরে পুরো একটা রাত সব ব্যাপারটা ঘটেছিলো স্থানীয় ভূতত্ত্ববিদ জীবনের জন্যে| ভারতবর্ষ থেকে একদল ভুতত্ববিদ জিম্ব্বাবোতে এসেছেন সোনার খোঁজে। পথে তারা খুঁজে পেল সোনার পিট। কাছে পিঠে বাঘ থাকার ও প্রমাণ পাওয়া গেল গাছে জুলন্ত হরিণের চামরা দখে। কারা খুঁড়ে ছিল সোনার পিঠ গুলি? মাফিয়াদের সাথে কি দেখা হল? বাঘ কি দেখা দিল ভুতত্ববিদদের আস্তানাতে? তারপর.........
***************************
আমরা যা
খুজছিলাম তা পেয়ে গেলাম, বাকি শুধু গ্রানাইট পাহাড়ে ধোঁয়াটে কোয়ার্টজ খুঁজে পাওয়া।
সেটা পাওয়া গেলে ওপর থেকে নীচ অবধি... ভাবা যায় না। ইচ্ছে তো করছে এখনই ঊঠে পড়ি,
কিন্তু ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে সাহস আর নেই কারোরই, তার ওপর প্রকৃতি আবার বিগড়ালো।
বলতে না বলতে দমকা হাওয়ার সাথে একপশলা বৃষ্টি আমাদের ভেজালো এবং আরও ভেজাবার হুমকি
দেবার জন্য কালো মেঘ আকাশের গায়ে রেখে
গেলো।
রাতে থাকার
ব্যবস্থা জীবন করেছে সরকারী বন-আবাসে, জি
পি এস এ তার স্থানাঙ্ক দিতেই পথ নির্দেশ দেখা গেলো, কিন্তু মেঘের ঘনঘটায় জি পি এস
একটু ভূল করলো, আমরা সেটা যখন বুঝলাম, তখন একটু অন্য রাস্তায় চলে এসেছি এক পাহাড়ী
ঝর্নার ধারে, প্রায় বিকেল হব হব করছে।
যে পাহাড়ের গা
বেয়ে ঝর্না, তাতে একটা গুহা । দেখে মনে হচ্ছে গুহাটা বড়সড়ই হবে। আমাদের সকলের
ব্যাকপ্যাকে মিলিয়ে জুলিয়ে যা আছে তাতে
অনাহারে রাত কাটবে না, আর শুকনো কাঠের অভাব নেই, নুডুল কাপ বানানোতো যেতেই পারে।
আর হাঁটা যায় না। প্রায় সবাই আমরা এখানেই রাত কাটাবার জন্য রাজি ছিলাম,কিন্তু জীবন
যে যুক্তি দেখাল সেটা ও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সামনে জলের ঝরনা আর পরিতক্ত্য গুহা,
রাতের হিংস্র প্রানীদের আবাসস্থল হতে পারে। গুহার কাছে গিয়ে কিন্তু সত্যি একটা
বোঁটকা গন্ধ পাওয়া গেল। কিন্তু জীবন,আমরা যাই কোথায়? তোমার জি পি এস তো ভুলভাল
রাস্তা দেখাচ্ছে।
ঝরনার মিষ্টি
জল খেয়ে মাথায় একটা বুদ্ধি খেলল সবাই সেটা মেনেও নিল। এই ঝরনা ধরে মাত্র আধ কিলোমিটার
নেমে গেলে অবশ্যই থুলি নদী, আমাদের
টোপোগ্রাফিক ম্যাপ তো আর জি পি এস নয় যে ভুল কিছু পথ দেখাবে। কিন্তু তাতে কি? আরে
ভাই বোঝো না কেন? নদী মানেই এই জিম্ব্বাবোতেতে
তার আশেপাশে গ্রাম বা মানুষের বসতি হতে পারে। রাতের আশ্রয় মিলতে পারে এমন কি খাবার
ও হয়ত।
জীবন আর ওর
দেশোয়ালি এক ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আমাদের একজন রসিকতা করতে ছাড়ে না। “ দেখগে হয় তো এদের কারো শ্বশুর বাড়ি হতে পারে, কি জীবন! জামাই আদরের
খাবারের ভাগটা দেব তো বাকিটা না হয় তোমার জন্যেই...”
এটা দেখছি
ইয়ুনিভারসাল জোক, দুজনেই সাদা দাঁত বের করে হেসে ওঠে।
হাঁসতে হাঁসতে
আমরা থুলি নদীর পাড়ের কাছে পৌঁছালাম অনেক তাড়াতাড়িই আর সেখানে এসে বেশ কিছু
নিষ্ঠুর সত্যির সামনে দাঁড়ালাম।
নদী জল দেয়,
সুফলা মাটি দেয় মাছের ও জোগাড় দেয়, কিন্তু জিম্ব্বাবোতে, নদী এছাড়া আরও কিছু দেয়। পাহাড় আর ঝরনার পাথরেরা গড়িয়ে গড়িয়ে
এসে জমা হয় নদীর কাছাকাছি, তার মধ্যে বেশকিছু পাথরে থাকে সোনা আর হীরে। এই থুলি
নদীর কাছে স্বভাবতই থাকবে সোনা মেশানো পাথর, স্থানীয় লোকে বলে রাবল।
নদীর কাছে
পৌঁছাতেই স্বর্ণ সন্ধানী এক ঝাঁক গ্রামবাসীর দেখা। সারা দিন ধরে ওরা নদীর বালি আর
আশে পাশে পিট কেটে পেয়ে যায় সোনা বেশ ভাল পরিমানে সোনা। তবু ওরা গরীব, বেশ গরিব তা
ওদের সঙ্গের অর্ধভুক্ত অপুষ্ট শিশু গুলো দেখলে বোঝা যায়। তাহলে সারা দিনে পাওয়া এই সোনা- সেটা তো কম নয়। আমরা
তো একটু আগে জেনেছি, আন্দাজ করতে পারি,
এরা কত টা পেতে পারে যদি চার পাঁচ জন মিলে এক টনের কাছাকাছি পাথর ধোয়ামোছা করে।
তাহলে?
ওদের একজন
আমাদের সত্যি কথাটা বলল। এই সব সোনা সপ্তাহে দু-তিন দিন মাফিয়ারা এসে নিয়ে যায়
দাদন দেওয়া অল্প পয়সার বিনিময়ে, তাতে কোনো রকমে ভুট্টাদানা কেনা যায়। এখানে
গ্রামের সাধারন লোক ভুট্টাদানা জলে সেদ্ধ করে একরকম পুলতিশ মতো জিনিস বানিয়ে খায়।
গমের আটার রুটি খেতে পাওয়া বিলাসিতা, পালে-পরবে হয়ত জুটল।
সেই এক শোষণের
কাহিনি সব জায়গাতে। জীবন ও তার সাথি নীরবে
ঘাড় নেড়ে জানাল যা আমরা শুনছি সব সত্যি।
ওরা হাত তুলে
দেখিয়ে দিল অদূরে এক পাহাড়ি টিলার চুড়োতে একটা উঁচু পাঁচিল দেওয়া একটা বেশ বড়
বাড়ি, বাইরে থেকে লোক এলে তারা ওখানেই
থাকে খায়।
আমাদের কাছে
কাপ নুডুল ছিল, এতে গরম জল দিলেই খাবার তৈরি হয়ে যায়। আমরা ওদের জন্য কয়েকটা
দিলাম, ওরা ওদের বাচ্ছাদের খাইয়ে দিল। এক শ্রমিক রমনি কিছু কাপ নুডুল চেয়ে নিল
বাড়ি নিয়ে যাবে তার বাচ্চাদের জন্যে। আমি ইচ্ছে করে আরো কিছু কাপ নুডুল ছেরে এলাম।
চলে আসার সময়
দেখি সেই মেয়েটি কাপ নুডুল গুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে দ্রুত ঢুকিয়ে নিচ্ছে তার এপ্রনের
ভেতরের পকেটে। সারাদিনের ক্লান্ত শরীরটা টানতে টানতে যখন পৌঁছাবে তার কুটিরে তখন
আজকের চিত্রটা অন্য রকম হবে। তার শিশুরা হাপুস হুপুস করে খাবে ধোঁয়া ওঠা কাপ
নুডুল, মনে হচ্ছে এই ভেবেই তার সারাদিনের উপবাস ক্লিষ্ট শুকনো মুখে আনন্দের হাসি
ফুটে উঠেছে। মায়েরা বোধ করি পালটায় না
কোথাতেও।
দু পাশে গভীর
ঘাস বনের বুক চিরে, পাকদণ্ডী বাঁধানো পথে, টিলার ওপরে উঁচু পাঁচিল ঘেরা সেই বাড়ির গেটের কাছে যখন পৌঁছালাম তখন পশ্চিম
আকাশে একটা লাল বড় গোলা পাটে বসেছে, হাল্কা আলো
আছে। দেশীয় ভাষায় জীবন আর তার সঙ্গি, গৃহরক্ষককে ব্যাপারটা বলতেই গেট খুলে
গেল শুধুমাত্র রাত্রের আশ্রয়ের জন্যে, কাল সকালেই ছেড়ে চলে যেতে হবে।
এক ঝাঁকা ভরতি
মুরগি আর ভুট্টার আটা আছে, রাত্রে খাবার অসুবিধা হবে না। তবে মালিকদের অনুমতি
ছাড়া ঘর খুলে দিতে পারবে না। ছাদের ওপরের
ঘরটা ওর, সেটা ছেড়ে দেবে। ছাদে ও শোবে, আমাদের দলের কিছু লোক ওর সাথে সেখানেও শুতে
পারে, কাঠের আগুনও থাকবে,শীত করবে না। এখানে দিনে গরম হলেও, রাতে কিন্তু বেশ শীত
করে।
গেস্ট হাউসের ঠিক
পাশ দিয়ে একটা পাহাড়ি ঝরনা বয়ে যাচ্ছে, আমরা চাইলে এখনি তাতে স্নান করে ফ্রেশ হতে পারি তবে চাঁদ ওঠার
আগে সে সব কিছু শেষ করে ফেলাই ভাল।
হঠাৎ চাঁদ
ওঠার সাথে আমাদের স্নানের কি সম্পর্ক? জীবনের সাথে মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে কথাটা বলেই
ফেলে সে।
“মানে তেমন ভয়ের
কিছু নেই এখন আর। আগে এই ঝরনাতে চাঁদের হাট বসে যেতো। জ্যোৎস্নার আলোতে বনের সব
জীব-জন্তুরা আসতো দল বেঁধে। এখন কখনো কখনো আসে কেউ কেউ”
আমাদের মধ্যে
একজন বলে ওঠে, “ কেন? জল তো শুকায় না, এই
গরমে ও তো দিব্যি বয়ে চলেছে, নাকি আরও কোনো বড় ঝরনা আছে?”
সে আমাদের
দিকে তাকিয়ে সাদা দাঁত বের করে হেসে ওঠে “ ঝরনা এ
তল্লাটে এই একটাই। জংলি জানোয়াররা সব বেঁচেবর্তে থাকলে তবে তো ।
তেনারা সব
আসেন, সোনা আদায় করেন,আর শিকার ও করেন। তাদের হাতে মরতে, মরতে একআধটা কেউ কেউ এখন
বেঁচে আছে কোনো রকমে। তারাই আসে কখনো কখনো। ”
ঝরনার জলে
স্নান করে আমরা যখন ফিরে এলাম গেস্ট হাউসের আঙ্গিনার টিন শেডে তখন কাঠের উনু্ন
জ্বলছে দু তিনটে।
রবার্ট গাড়ি ঠিক করিয়ে, মেকানিক
বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে খুঁজে খুঁজে চলে এসেছে। সঙ্গে একবস্তা জোয়ার-গম মেশানো আটা,
সয়াবিন তেল আর তেলচুকচুকে কালো রঙের একটা পাঁঠাও এনেছে। মুরগি আজ অনেকগুলো কেটে
ফেলেছে, কালো পাঁঠার সদব্যবহার কাল হবে। আপাততঃ সে আগুনের অদূরে এক জায়গায় বাঁধা,
কাঁঠাল পাতা মত কিছু চিবিয়ে চলেছে।
মেকানিক লোকটি
বয়স্ক, ও এখানকার সব পাহাড় জঙ্গল হাতের তালুর মত চেনে। এখানের পাহাড় জঙ্গলের গল্প
শুনছিলাম আমরা সব। তাকে আমরা যখন এক জায়গাতে গাছের ওপরে মরা হরিন দেখার কথা বললাম
সে হেসে আকুল। এটা কোনো “পোচার” অর্থাৎ চোরা শিকারি বাহিনীর কাজ। ও দিকে আর চিতা কই? এ তল্লাটে একটা
চিতার পরিবার ছিল,শুনি একটা তরুণী চিতা আর তার বাচ্চা দু- তিনটে এখনো বেঁচে আছে।
তবে আজ শুনলাম সে মাদি চিতাটার কয়েকদিন হল দেখা নেই, বাচ্চা গুলোকে হয়তো লুকিয়ে
গেছে গুহাটায়”
“গুহাটায় মানে?
আমরা একটু আগে সেই ঝরনার ধারে...”
মেকানিক বন্ধুটি
তাচ্ছিল্যের সাথে বলে, “ হ্যাঁ, এ
তল্লাটে এই ঝরনার মত, বাঘদের থাকার মতো তো ওই একটাই গুহা”
জীবন আমাদের
দিকে, বিশেষ করে আমাদের কয়জন যারা আজ রাতটা ওই গুহাতে থাকবার প্লানিং করেছিলুম,
তাকিয়ে বলল, “আমি তো তখনি তোমাদের মানা
করেছিলাম, ভাগ্যিস তোমরা আমার কথাটা...” জীবন এটা
অবশ্য বললো না যে চিতার গুহাতে কার জি পি এস এর
জন্য পথ ভুলে আমরা পৌঁছেছিলাম।
মেকানিক
ভদ্রলোক বললেন, “ভাগ্য তোমাদের সাথে এই
বিকেলেও ছিল। সেটা না হলে তোমাদের মধ্যে কেউ একজন এখানে আমাদের সাথে গল্প করত না”
আমি বললাম” তুমি কি বলতে চাইছো?”
“দিন দুই আগে
হলে সন্ধে হব হব সময়ে, ঘাসের বনের বুক চিরে যে পাকদণ্ডী রাস্তাটা এখানে এসেছে,
সেখানে একটা চতুর পুরুষ চিতা অপেক্ষা করত পথভোলা কোনো বাছুর বা ভেড়ার জন্যে।
পায়েচলা তোমরা তো তার কাছে আরো সোজা শিকার
ছিলে। তোমাদের ভাগ্য ভালো, যে তোমাদের একদিন আগে আসা অতিথিরা তার কপালে কতোগুলো
বুলেট বিঁধিয়ে দিয়ে, তার চামড়াটা হয়ত এখন হারারে র বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। তোমরা যে
চিতার গুহায় আজ রাত্রে থাকবে বলে ঠিক করেছিলে, সেটা এই বাংলোর ছাত থেকে দেখা যায়। আকাশে মেঘের তেমন উৎপাত না থাকলে এই চাঁদনি
রাতে দেখা যায় ঝরনা সমেত পুরো উপত্যকাটা”
গভীর রাতে
ছাদে ক্লান্ত সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, আমি আর জীবন ঘুমাই নি। দুটো নাইট ভিসন বাইনোকুলার
নিয়ে আগুন পোয়াতে পোয়াতে শুনছি, জ্যোৎস্না ধোয়া আকাশে, রাতের প্রকৃতির
অর্কেস্ট্রা। ঝর্ণার কুলুতানের সাথে ঝিঝির ঐক্যতান, সংযোজনায় প্রহর জাগা শিয়াল আর
রাত জাগা পেঁচা। দর্শকের অভাবে তাতে বেদনা মাখা সুর। কিন্তু এলো সেই ডাকে সাড়া
দিয়ে একদল বাদামি ইম্পালা হরিনের দল,ঘাড় নামিয়ে মুখ ডোবায় ঝর্নার স্ফটিক জলে।
হঠাৎ কেন
জানি, এক সতর্ক আওয়াজ আসে তাদের মধ্যে। নিস্তব্ধ উপত্যকা ছাড়িয়ে সেটা আমাদেরও কানে
আসে। মুহূর্তে তাদের বিদ্যুৎ বেগে পালিয়ে
যাওয়ার আওয়াজে ঘাসবনে ধূলিঝড় ওঠে, তবে কি...। ফিস ফিস করে জীবন বলে ঝরনার দিকে আর
গুহার কাছে নজর রাখো কিছু দেখা যেতে পারে।
আধ ঘণ্টা কেটে
যায়, বাইনো ধরা হাত দুটো ব্যথা করে, ঘুম
নেমে আসে চোখে, কিন্তু এটা কি? গেস্ট হাউস থেকে ঝরনাতে যাবার জন্যে রাস্তায়
দেওয়ালে একটা বড় গর্ত করা আছে। অবশ্য ওটা
একটা বাঁশের গেট দিয়ে বন্ধ করা আছে।
ঠিক সেই দিকের
দেওয়ালের ধারে এক জোড়া আগুনের ভাঁটার মত জ্বলছে ওটা কি? ওদিকে অনেক কটা গাছ
পাশাপাশি, চাঁদ এখন ঠিক ওগুলোর ওপরে থাকায় বেশ অনেকটা ছায়া তৈরি হয়েছে। নাইট ভিসনও
বোঝা যাচ্ছে না। জীবন ওর নাইট ভিসন কে গলায় ঝুলিয়ে ঢুলছিল, টোকা মারি ওর পিঠে।
ব্যাপারটা চট
করে জীবন বুঝে নিয়ে ছাদের সিঁড়ি রাস্তায়
নামানো কোলাপসিবল সাটারের দিকে তাকিয়ে আমাকে আশস্ত করে বললো “আরো এরকম দুটো বন্ধ গেট পেরিয়ে তবে জানোয়ারটা এখানে আসতে পারে।
ভয় নেই, আমি নিজে বন্ধ করেছি। আমাদের মধ্যে কেউ যদি ঝরনা থেকে ফেরার পথে গেটটা
বন্ধ করতে ভুলে যায় তবেই এই আঙ্গিনা তে ঢুকতে পারে, আর শুধু শুধু আঙ্গিনাতে ঢুকবেই
বা কেন?”
জীবনের কথা
শেষ হতে না হতেই টিন শেডে বেঁধে রাখা
রবার্টের আনা নধর পাঁঠাটা বোধ করি বিপদ আন্দাজ করে ব্যা, ব্যা আর্তনাদ করে ডেকে আমাদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিল।
পলক ফেলার কম
সময়ে মনে হল আঙ্গিনাতে একটা ঝড় বয়ে গেল,চাঁদের আলো আর নাইট ভিসন থাকা সত্ত্বেও মনে
হল অনেক গুলো সাদা কালো বিন্দু একসাথে টিন
শেডের দিকে তীব্র বেগে হারিয়ে গেল।
পরিস্কার দেখা গেল তাকে, তার ফেরার সময়ে, কালো
পাঁঠাটাকে মুখে কামড়ে টেনে নিয়ে যেতে ব্যস্ত সে তখন। এটি খুব সম্ভবত সেই তরুনি
চিতাবাঘটি। কি মনে করে সে এক লহমার জন্যে আঙ্গিনাতে থেমে গেল, সদ্য শিকার করা
পাঁঠাটাকে একবার দেখে নিলে।
কিছু পরে, গভীর
রাতের স্তব্ধ উপত্যকায় একবার শোনা গেল
বাঘের চাপা হুঙ্কার, নাইট ভিসনে দেখা যাচ্ছিলো ঠিক গুহার কাছে তিন চার জোড়া
ছোটো ছোটো আগুন চোখ।
আমার হঠাৎ মনে
পড়ে গেল, আজ বিকালে থুলি নদীর তীরে দেখা সেই শ্রমিক রমণীটিকে। আমাদের কাছ থেকে
পাওয়া আর আমার ইছে করে ছেড়ে আসা কাপ নুদুলগুলোর গায়ে হাত বুলিয়ে ঘরে রেখে আসা
অভুক্ত শিশুদের কথা মনে করতে করতে এপ্রনের ভিতর দ্রুত লুকিয়ে নেওয়া সেই খুশী-খুশী
মুখ। যেটা দেখিনি তখন সেটা এখন পুরো হল।
এক ক্লান্ত উপবাসক্লিষ্ট মা বয়ে নিয়ে চলেছে, তার পথ চেয়ে থাকা উপোষী শিশুগুলোর উপাদেয় আহার। সত্যি, মায়েরা সব সমান, তা সে মানুষ হোক আর চিতাবাঘ।
শেষ
***************************
* এই সত্যাশ্রয়ী গল্পটি কিছু সত্য ঘটনার আংশিক সংমিশ্রণে রচিত কাহিনি মাত্র, বাস্তব কোনও স্থান, কাল, ব্যাক্তির সাথে সাদৃশ্য কাকতালীয় মাত্র। সমস্ত আলোকচিত্রগুলি লেখক দ্বারা গৃহীত।




0 comments: