শিরোনাম

মাতৃ আরাধনায় শ্যামাসঙ্গীত

ছবি গুগুলঃ সাধনারত শ্রী রামকৃষ্ণ
কালী পূজোতে মায়ের গানের মূর্ছনায় আমরা সবাই মূর্ছিত হই। বহু যুগ ধরে গানের মাধ্যমে মায়ের আরাধনা সকল বাঙালির হৃদয়ে এক অনন্য স্থান করে রয়েছে। কালী-বিষয়ক বাংলা ভক্তিগীতির একটি জনপ্রিয় ধারা হল শ্যামাসঙ্গীত।

শ্যামাসঙ্গীত শাক্তপদাবলীর একটি বিশেষ পর্যায়।  শাক্তকবিরা প্রধানত তন্ত্রাশ্রয়ী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই শ্যামাসংগীতেও তন্ত্রদর্শন-এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। শ্যামাসঙ্গীতের পদগুলিতে কালী বা শ্যামাকে মাতৃরূপে ও  ভক্ত বা সাধককে সন্তানরূপে কল্পনা করা হয়েছে। ভক্তের প্রাণের আবেগ, আকুতি, আবদার, অনুযোগ, অভিযোগ, দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণার নিবেদন ও প্রার্থনা ছন্দোবদ্ধ হয়ে সঙ্গীত রূপে প্রকাশিত হয়েছে এই পর্যায়ে। এই কারণে সাধনতত্ত্বের পাশাপাশি আত্মনিবেদনের কাতর আকুতিও শ্যামা বিষয়ক পদগুলিতে অপূর্ব কাব্যময় হয়ে উঠেছে।

আনুমানিক অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে শ্যামাসঙ্গীতের ধারাটি বিকাশলাভ করে । এই সময় বঙ্গদেশে  বৈষ্ণব ধর্মানুশীলনের পরিবর্তে শাক্তদর্শন ও শক্তিপূজা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। তারই ফলস্বরূপ সৃষ্ট হয় শাক্তসাহিত্য।


শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ দুই কবি রামপ্রসাদ সেন ও কমলাকান্ত ভট্টাচার্য।  এই দুই দিকপাল শ্যামাসংগীতকার ছাড়াও অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট পদকর্তা এই ধারায় সংগীত রচনা করে শাক্ত সাহিত্য ও সর্বোপরি শাক্ত সাধনাকে জনপ্রিয় করে তোলেন।এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কৃষ্ণচন্দ্র রায়, শম্ভু চন্দ্র রায়, নরচন্দ্র রায়, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, রামনিধি গুপ্ত (নিধুবাবু), কালী মির্জা, দাশরথি রায় (দাশুরায়) প্রমুখ। অনেক মুসলমান কবিও শ্যামাসঙ্গীতের ধারায় নিজ নিজ কৃতিত্ব স্থাপন করে গেছেন। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ শ্যামা সংগীতকার হলেন কাজী নজরুল ইসলাম। এই শতাব্দীর বিখ্যাত শ্যামাসঙ্গীত গায়করা হলেন  পান্নালাল ভট্টাচার্য, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য,রামকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।

*************

0 comments: