![]() |
| কালীঘাট কালীমন্দির |
কালীঘাট
মন্দির,একান্ন
শক্তিপীঠের অন্যতম হিন্দু তীর্থক্ষেত্র। এই তীর্থের পীঠ দেবী কালীকা এবং ভৈরব বা
পীঠ রক্ষক নকূলেশ্বর। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী দেবী দাক্ষায়নীর ডান পায়ের চারটি
আঙুল (মতান্তরে একটি আঙুল) এই তীর্থে পতিত হয়েছিল। লোকশ্রুতিতে প্রচলিত আছে ব্রহ্মানন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারী নামে
দুই সন্ন্যাসী কষ্টিপাথরের একটি শিলাখণ্ডে দেবীর রূপদান করেন।
![]() |
| কালীঘাট কালীমন্দির ১৮৮৭ |
কালীঘাট
একটি বহু প্রাচীন কালীক্ষেত্র। কোনো কোনো গবেষকের মতে,"কালীক্ষেত্র"
বা "কালীঘাট" থেকে "কলকাতা" নামটির উদ্ভব। ১৮০৯ সালে বড়িশার
জমিদার সাবর্ণ রায় চৌধুরীর বংশধর শিবদাস
চৌধুরী,তাঁর পুত্র রামলাল ও ভ্রাতুষ্পুত্র লক্ষ্মীকান্তের
উদ্যোগে আদি গঙ্গার তীরে বর্তমান মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে। বর্তমান এই মন্দিরটি
নব্বই ফুট উঁচু। এটি নির্মাণ করতে প্রায় আট বছর সময় লেগেছিল এবং খরচ হয়েছিল
আনুমানিক ৩০,০০০ টাকা। মন্দির সংলগ্ন জমিটির মোট আয়তন ১
বিঘে ১১ কাঠার মতন। বঙ্গীয় আটচালা স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মূল মন্দিরটির আয়তন
অবশ্য মাত্র ৮ কাঠা। মূল মন্দির সংলগ্ন অনেকগুলি ছোটো ছোটো মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ,শিব প্রভৃতি দেবতারও পূজো হয়।
কালীঘাট
কালীমন্দিরের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি অভিনব রীতিতে নির্মিত। মূর্তিটির জিভ, দাঁত ও মুকুট সোনার। হাত
ও মুণ্ডমালাটিও সোনার। মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের অফিসের সিন্দুকে সতীর
প্রস্তরীভূত অঙ্গটি রক্ষিত আছে। এটি কারোর সম্মুখে বের করা হয় না।
![]() |
| কালীঘাট ১৯৪৭ |
কালীঘাট
মন্দিরের নিকটেই পীঠরক্ষক দেবতা নকুলেশ্বর শিবের মন্দির। ১৮৫৪ সালে তারা সিং নামে
জনৈক পাঞ্জাবি এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। শিবরাত্রি ও নীলষষ্ঠী উপলক্ষে এই
মন্দিরে খুব জাঁকজমক করে পূজো করা হয়।
কালীমন্দিরের পশ্চিম দিকে রয়েছে শ্যাম
রায়ের মন্দির ও বগুলা দেবীর মন্দির। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে বাওয়ালির জমিদার
উদয়নারায়ণ মণ্ডল শ্যাম রায়ের মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। এখানে রামনবমী ও
দোলযাত্রা উপলক্ষে ভক্তদের সমাগম হয়। ১৮৬২ সালে শবদাহের জন্য মন্দিরের অদূরে
নির্মিত হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশান।
প্রতি
বছর পয়লা বৈশাখ,দুর্গাপূজা ও দীপান্বিতা কালি পুজোতে
মন্দিরে প্রচুর ভক্ত ও পু্ণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এছাড়াও গঙ্গাসাগর-এ
পুণ্যস্নানের আগে সকল পু্ণ্যার্থীরা মা কালীর দর্শন করে যান।



0 comments: