![]() |
| ছবি গুগুল |
সনাতন ধর্মমতে কোজাগরী পূর্ণিমা
পরবর্তী কৃষ্ণপক্ষ বা অন্ধকার পক্ষের চতুর্দ্দশী তিথি তে সক্রিয় হয়ে ওঠে সমস্ত
ভূত, প্রেত ও অতৃপ্ত আত্মারা । দিওয়ালি ও কালিপূজার আগের দিন সারা ভারতে, প্রতিবেশী
দেশ নেপালে ও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস সেখানে
এই তিথি নানা নামে পালিত হয় । কোথাও ‘কালি চতুর্দ্দশী’, কোথাও বা ‘নরক চতুর্দ্দশী’ নামে পালিত হলেও বাংলায় এই দিন ‘ভূতচতুর্দ্দশী’ নামে খ্যাত । ভূত, প্রেত ও অপ আত্মা যাতে গৃহস্থ মানুষ ও গার্হস্থ্য জীবন কে
প্রভাবিত করতে না পারে তার এই দিন চোদ্দ রকমের শাক সব্জী খাওয়া ও চোদ্দ টি প্রদীপ জ্বালানোর
মাধ্যমে তাদের দূরে রাখার ক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয় এই বিশেষ তিথি । অনেক
জায়গায় এই দিন টি কে ‘ছোটিদিওয়ালি’ও বলা হয়ে থাকে । পাশ্চাত্যমনস্ক আধুনিকরা
অনেকে আবার এই দিন কে বলেন ‘ইন্ডিয়ান হ্যালুঈন’
![]() |
| ছবি উইকি |
মহাকালী কে আরাধনা করার দিন এই ভূত চতুর্দ্দশী । তান্ত্রিক রা এই দিন ভূতসিদ্ধি এবং মন্ত্র সিদ্ধির মহাসাধনা করেন । তন্ত্রাচার ও গুপ্ত সাধনার জন্য এই দিন সবচেয়ে উপযুক্ত দিন হিসাবে গণ্য করা হয়ে থাকে । কথিত যে এই দিন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ, পত্নী সত্যভামা সহযোগে যুদ্ধ করে প্রাগ্জ্যোতিষের অধিপতি বরাহপূত্র দূরাচারী নরকাসুর কে বধ করেছিলেন সুদর্শন চক্র দ্বারা । মৃত্যুকালে নরকাসুরের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণ বর দেন যে এই দিন ‘নরকাসুর বধের দিন’ হিসাবে মহা ধুমধামে পালিত হবে । তাই দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতের গোয়া তে আতসবাজি দ্বারা নির্মিত নরকাসুর এর বিশাল মূর্তি জ্বালিয়ে পালিত হয় নরক চতুর্দ্দশী । এছাড়া তামিলনাড়ু, অন্যান্য রাজ্য ও প্রতিবেশী দেশ নেপালেও এই বিশেষ উৎসব পালন করেন সাধারণ মানুষ । গুজরাত ও রাজস্থানের অনেক অংশে ধনতেরাস্ এর পরের এই দিন লক্ষ্মী দেবীর বিশেষ আরাধনা করা হয়।
বাল্মিকী কথিত রামায়ণে চোদ্দ
বছরের বনবাস ও লঙ্কাবিজয় শেষ করে সীতা ও লক্ষ্মণ কে সঙ্গে নিয়ে ঘরে ফেরার আনন্দে
অযোধ্যা নগরী দীপাবলি উৎসবে মেতে উঠেছিলো, তার সূত্র ধরে সর্বত্র যেদিন দিওয়ালি,
সেদিনই ঘোর অমাবস্যা তিথি তে দেবী কালির পূজা। সারা বাংলা এই দুই উৎসবের আনন্দে
আতসবাজি, মোমবাতি, প্রদীপ ও নানান আধুনিক আলোর সাজে সেজে ওঠে । কিন্তু ঠিক তার
আগের দিন ঘোর অন্ধকার পক্ষে ভূত-প্রেত দের জেগে ওঠার যে দিন সেই ভূত চতুর্দ্দশী
তে,অপশক্তি কে দূরে রাখার জন্য চোদ্দ প্রদীপ জ্বালানোর ক্রিয়া দিয়ে শুরু হয়ে যায়
দীপাবলির আলো ও আনন্দ উদযাপন।
***************************
![]() |
লেখা স্বদেশ মিশ্র
|



0 comments: