শিরোনাম

কবিতা

উৎসব ব্যানার্জী
ছবি ও লেখাঃ উৎসব ব্যানার্জী
















কারোর জীবনে ঘটে যাওয়া একটি অবশ্যম্ভাবী দুর্ঘটনা আমায় শব্দ জুগিয়েছিল এই লেখাটার জন্য। বহুদিন পর একা একা রাত জাগা আর ভোর রাতে এই কবিতা, প্রথম পাঠক/পাঠিকা কিছু দাঁড়কাক, তবে ওরা বাঙালী নয় তাই কি বুঝেছে জানিনা।

বেঁচে থাকার অভ্যেস গুলো গলা টিপে মারছি একটু একটু করে,
কিছু বুঝে ওঠার আগেই, হঠাৎ করে থেমে গেল সব,
ছোট বড় মাঝারি ইচ্ছেরা নালিশ করার পেল না সময়...
দম বন্ধ করা কিছু যন্ত্রণা ঘোট পাকাল বুকের বাঁ দিকে,
শুধু মনে থেকে গেল কিছু রক্তাক্ত সূর্যাস্ত...
চাঁদের একফালি আলো আদর বুলিয়ে দিল চোখ বোজা কপালে...  
শরীর টানছে মৃতদেহ, বিছানায় আরও একবার,
চুল্লির আগুন আময় গ্রাস করে নেবার আগে শেষবার
শেষবার মেতে ওঠ, সম্ভোগের খেলায়
আরও কিছু নখের আঁচর, খৈ ছড়ানোর আগে
আরও  কিছু এলোমেলো আদর, ওদের হরিবোল এর আগে... 
আগে বুঝিনি শরীরটাও এত প্রিয়

প্লেটোনিক প্রেমে যদিও কাটেনি এতগুলো বছর
তোমার সাথে কলেজ কেটে মিত্র কাফে
পরদার আড়ালে আমাদের মুহূর্তের বেডরুম
শরীরে হাত রেখে চিনে নেওয়া আরও কিছুক্ষণ...  
আমাদের ছিলনা মুঠো ফোন, ছিলদের লিস্ট ছিল ছোট
তবে ছিল দুটো মন- আজ থেকে রয়ে গেল একটাই
অন্যটা যাচ্ছে নিমতলা ঘাট
কাল থেকে ওরা কাঁচা মাছ রেখে দেবে আমার ঠিকানায়,
পিণ্ড দেবে তুমি, আঙ্গুলে দূর্বো ঘাস বেঁধে
পাশের আঙ্গুলে তখনও হয়ত বেথ্রোহাল রিং...
আমার নামে হবিষ্যি হবে, আমিও প্রেত তোমার কাছে... 
সময় প্রায় শেষ হয়ে এলো, বাইরে অপেক্ষায় সর্গরথ
সীৎকার ধুয়ে মুছে সাফ, চিৎকার কিছু এখনও হয়নি নীরব
প্রিয় শরীর আজ মরদেহ- শববাহি শীতাতপ ঘরে
আমার মৃতদেহে রেখনা নামাবলি, ভগবত গীতা
রেখো একটা লাল গোলাপ , হাতে লেখা একটা চিঠি , মাত্র কয়েক পাতা...

ছুঁচ ফোঁটাতে বড় ভয় ছিল এ শরীরে
সে শরীর আজ যাবে আগুনের গ্রাসে
আজ সব ভুলে গেলে তুমি – তোমার আদরের আমি
আজ শুধু মৃতদেহ বলে ?

1 comment: আপনার মন্তব্য