ডুবন্ত জাহাজের ভেসে ওঠার ছবি দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলা ক্রিকেট টিমের কামব্যাকে সমর্থকরা মাঠমুখী হয়েছেন। যার প্রমাণ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। রেলওয়েজ ও বাংলা ম্যাচ দেখতে মাঠে ভিড় জমিয়েছিল প্রায় পাঁচ হাজার দর্শক। যা বিগত কয়েক বছরে দেখা যায়নি। এবারও মরশুমের শুরুটা ভালো হয়নি লক্ষ্মীদের। গতবারের মতো কি এবারও ভালো পারফর্ম করতে পারবে বাংলা? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলা ক্রিকেটের অন্দরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গতবারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বেশ কঠিন। কারণ, গতবারের বাংলার ভালো পারফরম্যান্সের পিছনে ছিলেন মূলত তিনজন ক্রিকেটার। লক্ষ্মী, অশোক দিন্দা ও সৌরাশিস লাহিড়ি। এই তিন ক্রিকেটার আগামী দিনে ভালো খেলে দলকে জয়ের দোরগড়ায় পৌঁছে দেবেন তেমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বাংলায় ভালো ক্রিকেটারের অভাব কেন? এর উত্তরের খোঁজ মিলবে ক্লাব ক্রিকেটে। ক্লাবের হয়ে ভালো খেলার পরই রঞ্জিতে সুযোগ পান ক্রিকেটাররা। গত কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে যারা ক্লাবের হয়ে ভালো পারফর্ম করছেন তাঁরা রঞ্জিতে ফ্লপ। কারণ, পিচ। বিসিসিআই দেশের প্রত্যেক ক্রিকেট সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে রঞ্জিতে যেন স্পোর্টং পিচ তৈ্রি করা হয়। যেখানে ব্যাটসম্যান ও বোলার দুজনেই উইকেট থেকে উইকেট থেকে সুবিধা তুলতে পারে। রঞ্জিতে স্পোর্টিং পিচ হলেও ক্লাব ক্রিকেটে তৈ্রি হচ্ছে ব্যাটিং পিচ। যার ফলে ব্যাটসম্যানরাই মূলত পিচ থেকে সুবিধা পাচ্ছে। এর সঙ্গে বেশিরভাগ ক্লাবের মাঠ ছোট হওয়ায় বাউন্ডারির বাইরে বল পাঠাচ্ছে ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু এই ব্যাটসম্যানরাই রঞ্জিতে গিয়ে পারফর্ম করতে পারছেন না। স্পোর্টিং পিচ ও বড় মাঠ। মারতে গিয়ে বারবার ক্যাচ আউট হয়েছেন। এ জন্য রঞ্জি চলাকালীন লক্ষ্মী জানিয়েছিলেন, ব্যাটসম্যানদের ধৈর্য্যর অভাব। এর জন্য ক্লাব ক্রিকেটে স্পোর্টিং পিচ বানানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্পোর্টিং উইকেট বানানোর জন্য ক্লাবগুলিকে চাপ দিতে পারে সিএবি। এ নিয়ে সিএবি উদাসীন বললে ভুল হবে না। এই বিষয়ে সিএবির কোনও কর্তাকে জিজ্ঞাসা করলেই চোখ রাঙিয়ে বলছেন, “স্পোর্টিং উইকেট কাকে বলে জানো।’’ সিএবি যুগ্ম সচিবের মতে, বাংলায় ভালো বোলার নেই। সে কারণেই তারা উইকেট নিতে পারছেন না। আর তাই ক্লাব ক্রিকেটে আনেক রান হচ্ছে। পিচকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ক্লাব ক্রিকেট যথেষ্ট ভালো পিচে খেলা হচ্ছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা খুবই ভালো। ইন্ডিয়া টিমকে দেখলেই বোঝা যায়। ব্যাটসম্যানরা ভালো খেলছে। কিন্তু বোলাররা কিছুই করতে পারছে না। সিএবির যুগ্ম সচিবের জবাবে একটা প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। ক্লাব ক্রিকেটে যেসব ব্যাটসম্যানরা সফল, তারা রঞ্জিতে রান পাচ্ছেন না কেন? সুবীরবাবুর অজুহাত, সর্বভারতীয় স্তরে ভালো খেলার জন্য বাংলার ব্যাটসম্যানদের বুকের পাটা নেই। সাহস থাকলেই রঞ্জিতে ভালো খেলবে। সিএবি যুগ্ম সচিবের দাবি, বাংলায় ভালো বোলার নেই। তাহলে অশোক দিন্দা ও মহম্মদ সামির মতো বোলাররা কীভাবে ভারতীয় দলে সুযোগ করে নিল। বিসিসিয়ের মতো সিএবিও কেন ক্লাবগুলিকে স্পোর্টিং পিচ বানানর জন্য নির্দেশ দিচ্ছে না? এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলা ক্রিকেটের অন্দরে। আসল কারণটা হল, ক্লাব কর্তাদের অনেকের স্পোর্টিং পিচ নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। ক্লাবের এই কর্তারাই আবার সিএবির বিভিন্ন পদ আগলে রেখেছেন। যার ফলে ক্লাবগুলিকে নির্দেশ দেওয়ার মতো কেউ নেই। গত মরসুমে ৪৯ জন ক্রিকেটার বয়স ভাঁড়ানোর অভিযোগে ধরা পড়েছিল। প্রথমে এসব ক্রিকেটার ও অভিযুক্ত অ্যাকাডেমিগুলিকে নির্বাসিত করা হয়। পরবর্তীকালে কোনও এক চাপে নির্বাসনের বদলে শাস্তি হিসেবে জরিমানা করে সিএবি। এর থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার, বাংলা ক্রিকেটের উন্নতির জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও আসল বিষয়গুলিকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। তৃনমূল স্তরের উন্নতির জন্য সিএবি এখন থেকে কোনও উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনে বাংলা থেকে ভালো ক্রিকেটার উঠে আসাটা কার্জত অনিশ্চিত, তা কিন্তু বলাই যায়।

0 comments: